Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নির্বাচনের মুখে যুবসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রভাব কতটা? জোর চর্চা বিজেপির অন্দরে

বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। ভোটের অঙ্ক কষা শুরু করে দিয়েছে বিবদমান রাজনৈতিক দলগুলি। পিছিয়ে নেই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি।

নির্বাচনের মুখে যুবসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের  প্রভাব কতটা? জোর চর্চা বিজেপির অন্দরে
  • ১৪ মার্চ, ২০২৬ ১৩:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। ভোটের অঙ্ক কষা শুরু করে দিয়েছে বিবদমান রাজনৈতিক দলগুলি। পিছিয়ে নেই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। নির্বাচনি সমীকরণ পর্যালোচনা করতে গিয়ে তাদের সামনে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে দু’টি ইস্যু—যুবসাথী প্রকল্প চালু এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বরাদ্দ বৃদ্ধি। গেরুয়া শিবিরের একাংশের মতে, ভোটের আগে এই দু’টি প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, শাসক তৃণমূল এই সিদ্ধান্তকে রাজ্য সরকারের সাফল্য হিসাবে দেখাতে চেষ্টায় খামতি রাখবে না। তার মোকাবিলা করেই নিজেদের সমর্থনের ঝুলি ভরাতে হবে বিজেপিকে। এই বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন বারাসত জেলা বিজেপির উপর থেকে নীচুতলার কর্মীরা। এর পাশাপাশি, এসআইআর কতটা প্রভাব ফেলবে ভোটবাক্সে, তা নিয়েও বিজেপির অন্দরে চলছে কাটাছেঁড়া। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি তাদের কয়েকটি বৈঠকে এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নীচুতলার নেতাকর্মীদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, মাঠে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বললেই এই প্রকল্পগুলির প্রসঙ্গ সামনে চলে আসছে। বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। বহু মহিলা মাসে মাসে টাকা পেয়ে উচ্ছ্বাস গোপন করছেন না। যে কোনো আড্ডা বা আলোচনায় এসব প্রকল্পের প্রসঙ্গ নিয়মিত ঘুরেফিরে আসছে। একই সঙ্গে যুব সমাজের একটি অংশের মধ্যে যুবসাথী প্রকল্প নিয়েও উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। ফলে নির্বাচনের সময় এসবের প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়েই বাড়ছে জল্পনা। বিজেপির একাংশের বক্তব্য, শুধু রাজনৈতিক আক্রমণ বা শাসক দলের সমালোচনায় এই বাস্তবতা কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে না। তার উপর এসআইআর নিয়ে তৃণমূলের প্রতিবাদের বিষয়টিও বিজেপির জন্য চাপের হচ্ছে। কারণ, অনেক জায়গায় যোগ্য ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। নোটবাতিলের সময়ের মতো ফের লাইনে দাঁড়ানোর বিষয়টি  ভালোভাবে নেয়নি গ্রামবাংলার মানুষ। তাই বিজেপির অন্দরে এখন প্রশ্ন উঠছে, পালটা রাজনৈতিক বার্তা কী হবে? কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাবে বিজেপির বক্তব্য? স্পষ্ট উত্তর এখনও পাননি বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। 

Advertisement

সূত্রের দাবি, ভিন রাজ্যের নেতারা এসেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বিজেপির এক নেতা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ‘বাংলায় গত কয়েক বছরে সামাজিক প্রকল্পের প্রভাব ভোটের রাজনীতিতে স্পষ্ট। বিধানসভা নির্বাচন যত এগবে, এই প্রশ্নও ততই গুরুত্ব পাবে।’ হাবড়ার তৃণমূল বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর একের পর এক ভাবনায় বিজেপি ঘরে ঢুকে গিয়েছে। ২০২১ সালের তুলনায় এবার ওদের ফল আরও খারাপ হবে। নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে যেভাবে মানুষকে হেনস্তা করেছে, তাতে ওদের হার কেবল সময়ের অপেক্ষা।’ পালটা বিজেপি নেতা তাপস মিত্র বলেন, ‘এবার তৃণমূলের অবস্থা যা হবে, দেখতে থাকুন। ঘুষপেটিয়াদের নাম বাদ যাওয়ার ভয়ে কত কিছু করতে হচ্ছে। মানুষ এবার তৃণমূলকে চির বিদায় দেবে।’

সম্পর্কিত সংবাদ