Bartaman Logo
৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভিনরাজ্যের অভিযোগ পেতেই বি এড কলেজ পরিদর্শন শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের

রাজ্যের বি এড কলেজগুলির মান খতিয়ে দেখতে পরিদর্শন শুরু করেছে বাবাসাহেব আম্বেদকর শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়। অভিযোগের গুরুত্ব বোঝার জন্য বিস্তারিত পড়ুন।

ভিনরাজ্যের অভিযোগ পেতেই বি এড কলেজ পরিদর্শন শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের
  • ৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: এই রাজ্য থেকে পাশ করা বি এড উত্তীর্ণদের মান নিয়ে অভিযোগ পাওয়ায় কলেজগুলি পরিদর্শন শুরু করল বাবাসাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি। এ রাজ্যে বি এড পড়তে আসেন ভিনরাজ্যের বহু পড়ুয়া। তবে, পড়ুয়াদের একাংশের মান এত খারাপ যে, রাজ্যের স্কুলশিক্ষার সার্বিক অবনতি হচ্ছে। এমন অভিযোগ জানিয়ে সম্প্রতি উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি রাজ্যের মুখ্যসচিব চিঠি দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবকে। সেখান থেকে বি এড কলেজগুলির অনুমোদনকারী বিশ্ববিদ্যালয় বাবাসাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটিতে পৌঁছায় ওই উদ্বেগপূর্ণ চিঠি। এরপর কলেজগুলির মান খতিয়ে দেখতে আসরে নামে বিশ্ববিদ্যালয়। শুক্রবার থেকে সরকারি বি এড কলেজের শিক্ষকদের নিয়ে তৈরি একটি দল বিভিন্ন বেসরকারি বি এড কলেজে আচমকা পরিদর্শন শুরু করেছে। দলটি পঠনপাঠনের মান দেখার ক্ষেত্রে জোর দিয়েছে। পাশাপাশি ন্যূনতম পরিকাঠামো আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে।

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অরুণাশিস গোস্বামী বলেন, ‘বি এড পড়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য যদি অন্য রাজ্যের শিক্ষার মান পড়ে যায়, সেই অভিযোগের তদন্ত তো হওয়াই উচিত। সরকারের সিদ্ধান্ত মেনেই পরিদর্শন হচ্ছে। সেই অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে সরকারের কাছে।’ তাঁর অভিযোগ, পুরুলিয়ার একটি কলেজ দীর্ঘ ছ’মাস ধরে তালাবন্ধ ছিল। অভিযোগ পাওয়ার সেখানে গিয়ে শোনা যায়, অধ্যক্ষ অনলাইনে ক্লাসের কথা বলেছেন। যদিও অধ্যক্ষ সেই কথা অস্বীকার করেননি। এর জন্য বাধ্য হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়, রাজ্যে কোনো অনলাইন বি এড কোর্স চালু নেই। আরও একটি আজব ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণবঙ্গের একটি কলেজে। দু’-তিনবার পোর্টাল খোলা সত্ত্বেও তারা কোনো পড়ুয়া পায়নি। চতুর্থবারে এক লপ্তে ৮০ জন পড়ুয়া ভরতি হয়ে যান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাঁরা সবাই ওড়িশার। তাঁদের বলা হয়েছিল, অনলাইনে ক্লাস হবে। তাই তাঁরা সেখানে ভরতি হন। আরও জানা যায়, পিএইচডি ডিগ্রিধারী, বালেশ্বরের এক বাসিন্দা দালালি করে এনেছেন সেই পড়ুয়াদের। এই যোগসূত্র ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বেশ কয়েকজন অস্থায়ী কর্মীকে দালালি এবং দুর্নীতির অভিযোগে সরানো হয়। কলেজগুলির একাংশের দাবি, পূর্বতন সরকারের সময় কম্পোজিট ইউনিটের নাম করে যে ঢালাও বি এড এবং ডি এল এড কোর্স চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি আগে পরিদর্শন করা হোক। পাশাপাশি তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থায়ী রেজিস্ট্রার থাকার কারণে অসম, ত্রিপুরার ছাত্রছাত্রীদের চাকরি পেতে সমস্যা হচ্ছিল। মান তো পরের কথা, আগে স্থায়ী রেজিস্ট্রার নিয়োগ করা হোক। অস্থায়ী রেজিস্ট্রারের চিঠিতে কীভাবে পরিদর্শন হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তুলেছে কলেজগুলি। যদিও উপাচার্যের বক্তব্য, এগুলি অজুহাত হিসাবে খাড়া করছে কলেজগুলি। অস্থায়ী রেজিস্ট্রারের মাধ্যমেই এতদিন বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার অধীন কলেজগুলি চলেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ