Bartaman Logo
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৫৩টি কলেজের বাস্তব কোনো অস্তিত্বই নেই! রাজ্যে বি এড পাঠের বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ শিক্ষামন্ত্রীর

বি এড কলেজগুলির বেহাল পরিকাঠামো নিয়ে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। উচ্চশিক্ষা দপ্তরের তরফে সম্প্রতি পরিদর্শন চালিয়ে শোকজ করা হয়েছে কলেজগুলিকে।

৫৩টি কলেজের বাস্তব কোনো অস্তিত্বই নেই! রাজ্যে বি এড পাঠের বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ শিক্ষামন্ত্রীর
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বি এড কলেজগুলির বেহাল পরিকাঠামো নিয়ে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। উচ্চশিক্ষা দপ্তরের তরফে সম্প্রতি পরিদর্শন চালিয়ে শোকজ করা হয়েছে কলেজগুলিকে। কমবেশি ৬০০ কলেজের মধ্যে মোট ৪৫০ থেকে ৪৭৫টি কলেজে শোকজের চিঠি গিয়েছে। ২১ দিনের মধ্যে তারা জবাব দেবে। পরিদর্শন রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, এর মধ্যে ৫৩টি কলেজের কার্যত কোনো অস্তিত্ব নেই। তবে, ৩১ আগস্ট বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দপ্তর জানিয়েছিল, ৭ সেপ্টেম্বর থেকে বি এডে ভরতি প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তবে, ‘দাগি’ কলেজগুলিতে পড়ুয়া ভরতি আপাতত বিশবাঁও জলে।

Advertisement

মাস দুয়েক আগে সিকিমের মুখ্যসচিব রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে এরাজ্যের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি সম্পর্কে অভিযোগ জানান। কলেজগুলি নামমাত্র। সেখানে পড়াশোনা ছাড়াই ডিগ্রি মেলে! ফলে সেখান থেকে বাংলায় চলে আসছেন বহু ছাত্রছাত্রী। এর জেরে মার খাচ্ছে সিকিমের কলেজগুলি। আর নিম্নমানের শিক্ষকদের জন্য সার্বিকভাবে মার খাচ্ছে সে-রাজ্যের স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থাও। এদিন জগন্নাথ বলেন, ‘একটি প্রতিবেশী ছোটো রাজ্যের চিঠি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে, গত ১৫ বছরে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা কলেজগুলি রাজ্যের কী ভাবমূর্তি তৈরি করেছে!’
পড়াশোনার পরিবেশ, শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীসহ বিভিন্ন মাপকাঠিতে স্কোরিং করা হয়েছে কলেজগুলিকে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, কলেজগুলি গড়ে ৫১.৫ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। ১১৪টি কলেজের ৩০ শতাংশের নীচে নম্বর। ১৭টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলি কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থা এনসিটিইর কোনো নিয়ম মেনে চলে না। সব মিলিয়ে ২৬৫টি কলেজ এমন রয়েছে, যা চলবার মতো নয়। ১২১টি কলেজের পরিকাঠামো বেশ খারাপ। সেগুলিও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার মতো জায়গায় নেই বলেই প্রাথমিক মত দপ্তরের। ১৫১টি কলেজের সব ঠিকঠাক রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর প্রায় ৬২ হাজার ছাত্রছাত্রী বি এড ডিগ্রি পান। এতদিনে যত বি এড উত্তীর্ণ আছেন, তাঁদের দিয়ে চার পাঁচবার এসএসসি নিয়োগ হয়ে যাবে। তাই এ ধরনের কলেজগুলিকে ডি-অ্যাফিলিয়েট করলে বা ছাত্র ভরতি সাসপেন্ড করলে বড়ো কোনো সমস্যা নেই বলে তাঁর ইঙ্গিত। প্রসঙ্গত, ভালো স্কোর করা কলেজগুলিকেও আরও উন্নতি করার জন্য চিঠি পাঠানো হবে। এরপরে কারিগরি ও প্রযুক্তি, আইন, ফার্মাসিউটিক্যাল কলেজগুলিতেও পরিদর্শন হবে বলে তিনি জানান। এও বলেন, পরের শিক্ষাবর্ষ থেকে আর বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটির অধীনে থাকবে না কলেজগুলি। ভৌগোলিকভাবে তারা যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকায়, সেগুলির অধীনেই চলে যাবে। তবে, ইতিমধ্যেই ছয়টি কলেজ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছিল। তবে এবার তা সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন মন্ত্রী।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ