সৌম্যকান্তি ত্রিপাঠী, বেলদা: ভোটের ডামাডোলে শিকেয় উঠেছে পঠনপাঠন। প্রশাসনের চূড়ান্ত উদাসীনতায় বন্ধ স্কুলের দরজা। চরম অনিশ্চয়তার মুখে কয়েকশো পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ। প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন মিটে গেলেও নারায়ণগড় ব্লকের নেকুরসেনি বিবেকানন্দ বিদ্যাভবন হাইস্কুলে পঠনপাঠন এখনও স্বাভাবিক হয়নি। বৃহস্পতিবার স্কুল খোলার কথা থাকলেও না খোলায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অভিভাবক ও পড়ুয়ারা।
গত ২৩ এপ্রিল ছিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। দাঁতন ও নারায়ণগড় বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট পরিচালনার সুবিধার্থে গত ৯ এপ্রিল থেকেই এই স্কুলটিকে ডিসিআরসি সেন্টার হিসেবে অধিগ্রহণ করেছিল প্রশাসন। কথা ছিল, ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত স্কুলটি প্রশাসনের অধীনে থাকবে এবং গত ২৭ এপ্রিল, সোমবার থেকে নিয়মিত ক্লাস শুরু হবে। পরবর্তীকালে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার ৩০ তারিখ স্কুল খোলার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সেই মতো এদিন সকাল থেকে স্কুলের শিক্ষক থেকে শুরু করে ছোট ছোট পড়ুয়ারাও ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুলে হাজির হয়। কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তাদের নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও স্কুল ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর না করায় পঠনপাঠন শুরু করা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আগামী ৪ মে পর্যন্ত ফের স্কুল বন্ধ রাখার নতুন নোটিশ জারি করা হয়েছে।
প্রায় এক মাস ধরে স্কুল বন্ধ থাকায় হতাশ পড়ুয়ারা। তাদের কথায়, প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকে একদিনও তারা ক্লাস করতে পারেনি। বার বার স্কুল খোলার আশ্বাস দেওয়া হলেও খুলছে না। অন্যদিকে ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের দাবি, দ্বিতীয় দফার ভোটও শেষ হয়ে গিয়েছে। এখানে কোনো কাউন্টিং সেন্টার না থাকলেও কেন দিনের পর দিন স্কুল বন্ধ রাখা হচ্ছে, তা একেবারেই বোধগম্য নয়। বাড়ির সন্তানদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের কি প্রশাসনের কাছে কোনো মূল্য নেই? এই প্রশ্ন তুলে তাঁরা প্রশাসনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভাপতি সুকুমার গিরি জানান, প্রথমে ২৭ তারিখ এবং পরে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ৫ মে স্কুল খোলার কথা বলা হয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সত্যজিৎ করের দাবি, প্রশাসনের আসবাব ও জিনিসপত্র এখনও সরানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তর জিনিস সরাতে আরও সময় চেয়ে নেওয়ায় ক্লাস শুরু করা যাচ্ছে না। এই চূড়ান্ত অব্যবস্থার বিষয়ে অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক গৌতম হালদার জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না, তবে তিনি দ্রুত স্কুল খোলার ব্যবস্থা করছেন। অন্যদিকে ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিকের সাফাই, চাষের মরশুম চলায় শ্রমিক মেলেনি, তাই জিনিসপত্র সরাতে দেরি হয়েছে।
প্রশাসনের এমন ঠুনকো অজুহাত ও পরিকল্পনাহীনতায় পড়ুয়াদের মূল্যবান শিক্ষাবর্ষের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে ওয়াকিবহাল মহল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি প্রশাসনের আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক হওয়া উচিত ছিল। দ্রুত স্কুল খোলা না হলে শেষমেশ বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।-নিজস্ব চিত্র