মহালয়ায় আবাহনের মেগা আয়োজন ইডেনে, দুর্গাপুজোয় উৎসবের সুর বাঁধতে আসছেন প্রধানমন্ত্রীও
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবারই প্রথম দুর্গাপুজো। আর বাংলার সেরা উৎসবকে বিশ্বমঞ্চে আরও বড়ো করে তুলে ধরতে কোমর বেঁধে নামল শুভেন্দু অধিকারী সরকার। পূর্বতন সরকারের দেখানো পথ থেকে সরে। কিন্তু মেগা আয়োজনে। তাই পুজো পরবর্তী কার্নিভাল আর নয়। মহালয়াতেই মা দুর্গার আবাহনে বিপুল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। ইডেন গার্ডেন্সে হবে সেই অনুষ্ঠান। শারদোৎসবের সুর বেঁধে দিতে সেখানে উপস্থিত থাকবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও। 

Advertisement

অসমে মেগা বিহু উৎসবের আয়োজন করে গোটা দেশকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকার। ১১ হাজার ৩০৪ জন শিল্পী একযোগে সেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে নাম তুলেছিল গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। সেখানেও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তবে মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সের অনুষ্ঠানে অসমকেও ছাপিয়ে যেতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই লক্ষ্যেই বুধবার সকাল থেকে আসরে নেমে পড়েছে রাজ্য প্রশাসন। এদিন এই অনুষ্ঠান নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হয় নবান্নে। উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর পদস্থ কর্তা থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতৃত্বও। বৈঠকের নির্যাস জানানো হয়েছে জেলা সফরে থাকা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। বালুরঘাটে এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মহালয়ায় বড়ো অনুষ্ঠান হবে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমন্ত্রিত। কে আসছেন, কবে আসছেন, এবিষয়ে দিল্লি থেকে কনফার্মেশন পেলে আমরা জানাব।’
সূত্রের খবর, কলকাতার মধ্যেই এই মেগা অনুষ্ঠানের আয়োজনে বেছে নেওয়া হয়েছে ইডেন গার্ডেন্সেকে। রাজ্যের প্রশাসনিক মহল জানাচ্ছে, কোথায় অনুষ্ঠানটি হচ্ছে, তার থেকেও বড়ো বিষয় হল, কীভাবে এই অনুষ্ঠানকে নজিরবিহীন মাত্রায় নিয়ে যাওয়া যায়, সেই পরিকল্পনা। সেক্ষেত্রে জানা গিয়েছে, আগমনি, দুর্গাপুজোর ইতিহাস, লোকশিল্প, ঢাক, ঢোল এবং ধুনুচি নাচকে প্রাধান্য দিয়ে সাজানো হচ্ছে ওই দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সূচি। থাকছে ছৌ সহ নানা জেলার লোকশিল্প। প্রত্যেক ক্ষেত্রের হাজার হাজার শিল্পী অংশ নেবেন অনুষ্ঠানে। মহালয়ার আবহে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহিষাসুরমর্দিনীও অনুষ্ঠানের মূল পর্বে রাখা হতে পারে। 
পূর্বতন সরকার দুর্গাপুজোর পরে কার্নিভালের আয়োজন করত। কিন্তু, রাজ্যের নয়া সরকার চেয়েছিল পুজোর বেশ কয়েকদিন আগেই একটি মেগা অনুষ্ঠান হোক। কারণ রাজ্য মনে করছে, এতে পুজোর দিনগুলি নিয়ে গোটা দেশে আগ্রহ বাড়বে। তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে রাজ্যের পর্যটন শিল্পে। ফলে এখন সকল চোখ একটি দিকেই—অসমের মতো পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের সব থেকে বড় উৎসবকে সামনে রেখে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তুলতে পারে কি না।