নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ফের পিছিয়ে গেল আইপ্যাক মামলার শুনানি। এই নিয়ে দু’বার। সুপ্রিম কোর্টে মামলা পিছোনোর আবেদন করল ইডি। আপত্তি করলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মানেকা গুরুস্বামী। উল্টে কৃতজ্ঞতা জানালেন। শুক্রবার বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চে ছিল শুনানি। দুই পক্ষই রাজি হওয়ায় আদালতও জানিয়ে দিল, ঠিক আছে। ১৮ আগস্ট পরবর্তী শুনানি হবে।
যদিও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই নিয়ে দু’বার মামলা পিছনোর আবেদন করায় রাজনৈতিক মহলে উঠছে প্রশ্ন। কেনই বা ইডি মামলা পিছোতে চাইছে? তবে কি মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়, প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের পাশাপাশি পুলিশ অফিসার মনোজ কুমার ভার্মা এবং প্রিয়ব্রত রায়ের বিরুদ্ধে এখনো যথাযত তথ্য প্রমাণ খাড়া করতে পারছে না? নাকি ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাজ্যের বিজেপি সরকারের অবস্থান কী হবে, তা ঠিক করে উঠতে হিমশিম খাচ্ছে? গত ২৩ এপ্রিল হয়েছিল শুনানি। তারপর গত ১৩ এবং ২২ মে শুনানির তারিখ নির্দিষ্ট হলেও দু’দিনই মামলা পিছোনোর আবেদন করে ইডি।
সুপ্রিম কোর্টে এই আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলাটি আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডিরতল্লাশি চালানোর সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফাইল কেড়ে নিয়ে চলে এসে অন্যায় করেছেন কি না, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সুপ্রিম কোর্ট বৃহত্তর বিষয় বিচার করছে। সেটি হল, কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা ইডি আদৌ সরাসরি কোনো রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে কি না? সংবিধানের ১৩১ অনুচ্ছেদে বলা বিষয় বিচার করা হচ্ছে। যেখানে কেন্দ্র বনাম রাজ্য, রাজ্য বনাম রাজ্য এবং কেন্দ্রের সঙ্গে কয়েকটি রাজ্য বনাম অন্য কয়েকটি রাজ্যে বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গে বলা আছে।
ইডি কেন্দ্রেরই একটি সংস্থা। তাই সরাসরি তারা কোনো রাজ্যের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। আর সেই প্রসঙ্গেই নিজেদের পক্ষে যুক্তি জোরদার করতেই তথ্য জোগাড় করছে ইডি। এদিন শুনানিতে ইডির পক্ষে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু আদালতে একটি রিপোর্ট জমা দেন। জানান, এতদিনে এই মামলাই ইডি কী করেছে, তা জানানো হল। বাকি শুনানির জন্য সময় দেওয়া হোক।