নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জোর করে জমি দখলের মামলায় কলকাতা পুলিশের তিন ইনসপেক্টরের বয়ান রেকর্ড করল ইডি। এই মামলায় গ্রেপ্তার কলকাতা পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন তাঁরা। অভিযোগ, এই ওসিরা শান্তনুবাবুর নির্দেশমতো ব্যবসায়ী জয় কামদারকে জোর করে জমি দখল করিয়ে দিতে সাহায্য করেছিলেন। এই মামলায় জয় ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী কল্যাণ শুক্লাকে বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
জোর করে জমি দখলের মামলায় আদালতে ইডির দাবি, পুলিশ-কাউন্সিলার, জমি মাফিয়া এবং দুষ্কৃতীরা মিলে একটি আঁতাত গড়ে তুলেছে। কাউন্সিলাররা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা টাকা নিতেন বলে অভিযোগ। সেই সঙ্গে এলাকায় কাজ করার জন্য ব্যবসায়ীকে স্থানীয় থানায় এককালীন টাকা দিতে হত। ব্যবসায়ী জয় কামদারের সঙ্গে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠতা ছিল। ইডি’র দাবি, জোর করে এই চক্র কম দামে জমি বেচতে বাধ্য করতেন মালিককে। কেউ জমি দিতে না চাইলে সোনা পাপ্পু অস্ত্র নিয়ে গিয়ে ভয় দেখাতেন বলে অভিযোগ। এই কাজে সাহায্য করেছেন একাধিক ওসি। শান্তনুবাবু ও জয়কে জেরা করে কয়েকজনের নাম হাতে আসে ইডির। জানা যায়, তাঁরা যে সব থানায় পোস্টিং ছিলেন, সেখানে জমি নিয়েছেন জয় কামদার। সমস্ত জমি কম পয়সায় কিনেছিলেন। শান্তনুবাবুর নির্দেশে জয়কে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিরা বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন। পাশাপাশি এই রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী বিভিন্ন সময়ে ওসিদের গিফটও পাঠিয়েছেন। শান্তনুবাবু ও জয়ের মোবাইল ঘেঁটে এই সমস্ত ওসিদের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কথোপকথনের তথ্য পান তদন্তকারীরা। এরপরই তিন ইনসপেক্টরের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর। আরও এক ইনসপেক্টরকে ডেকে পাঠিয়ে নোটিস গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, জমি দখলের মামলায় কল্যাণ শুক্লার সঙ্গে জয়ের ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ, মানিকতলা থানা এলাকার একটি জমিতে জয়ের সঙ্গে বিনিয়োগ করেছিলেন কল্যাণবাবু। সে ব্যাপারে জানতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ বলে জানা গিয়েছে।