Bartaman Logo
২৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাইপাসের ধারের অনলাইন আবেদন কেন্দ্রে হানা ইডির

জাল নথি দিয়ে ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরির ঘটনায় নদীয়ার চাকদহ এবং ৭৮১, আনন্দপুরের অনলাইন পাসপোর্ট আবেদন কেন্দ্রে তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট  (ইডি)।

বাইপাসের ধারের অনলাইন আবেদন কেন্দ্রে হানা ইডির
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা ও সংবাদদাতা কল্যাণী: জাল নথি দিয়ে ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরির ঘটনায় নদীয়ার চাকদহ এবং ৭৮১, আনন্দপুরের অনলাইন পাসপোর্ট আবেদন কেন্দ্রে তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট  (ইডি)। রিজিওনাল পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় সোমবার সকাল থেকেই এই অভিযান শুরু হয়। এই পর্বেই চাকদহের এক কাঠ মিস্ত্রির বাড়িতে হানা দিয়ে তিনজনকে আটক করে কলকাতায় নিয়ে এসেছে ইডি। অনলাইন পাসপোর্ট কেন্দ্রের অফিস থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কমপিউটারের হার্ড ডিস্ক সহ বিভিন্ন নথি।

Advertisement

মাস খানেক আগে ভুয়ো ভারতীয় নথি দিয়ে পাসপোর্ট তৈরির ঘটনায় চাকদহ থেকে ইন্দুভুষণ হালদারকে গ্রেফতার করে ইডি। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছিল সাড়ে তিনশোর বেশি জাল পাসপোর্ট। ইন্দুভুষণকে জেরা করে কেন্দ্রীয় এজেন্সির কর্তারা জানতে পারেন, সে পাক নাগরিক আজাদের এজেন্ট। ইডির হাতে ধরা পড়া আজাদের কথামতো সে নদীয়া এবং বনগাঁ সহ উত্তর ২৪ পরগণার বিভিন্ন সীমান্ত পার করে আসা অনুপ্রবেশকারীদের  রিসিভ করে নিয়ে আসছে। তাদের বিভিন্ন জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করছে। এরপর তৈরি হচ্ছে জাল আধার, ভোটার, প্যানসহ বিভিন্ন ভারতীয় নথি। তার ভিত্তিতে ইস্যু হচ্ছে আসল ভারতীয় পাসপোর্ট। শুধুমাত্র বাংলাদেশি নাগরিকরা নয়, পাক নাগরিকরাও বাংলাদেশ হয়ে ভারতে আসছে। তাদেরও পাসপোর্ট তৈরি হয়েছে ইন্দুভুষণের মাধ্যমে। 
অভিযুক্ত জেরায় ইডির কাছে দাবি করে, এক একটি পাসপোর্ট তৈরির জন্য পঁচিশ থেকে তিরিশ হাজার টাকা নেওয়া হত। বাইপাস লাগোয়া পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রের কাছে  তার অফিস রয়েছে।  সেখানে অনলাইনে ফর্ম ফিল আপ করানো হয়েছে বাংলাদেশি ও পাক নাগরিকদের। তার শাগরেদরাও অফিস খুলে একই কাজ করছে।  পাসপোর্ট দপ্তর কর্মরত অফিসারদের একাংশের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে।  অবৈধভাবে সীমান্ত পেরোনো বাংলাদেশি ও পাক নাগরিকদের সাক্ষাতের জন্য ডাক পড়লে সে তাদের নিয়ে যেত। নথি যাচাই না করেই তাদের ফাইল ক্লিয়ার করে দেওয়া হত। তার ভিত্তিতেই  সোমবার  বাইপাসে আরপিও অফিস সংলগ্ন অনলাইনে  পাসপোর্ট আবেদন কেন্দ্রের কয়েকটি অফিসে হানা দেয় ইডি। সেখান থেকে একাধিক নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে,  উদ্ধার হওয়া নথিতে একাধিক বাংলাদেশি ও পাক নাগরিকের নাম রয়েছে। যাদের ভারতীয় পাসপোর্ট ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে। নদীয়ার চাকদহে যে কাঠ মিস্ত্রি বাড়িতে হানা দেয় ইডি, তাদের পাসপোর্টও তৈরি করে দিয়েছিল ইন্দুভুষণ।  চুয়াডাঙার পরারি গ্রামে বিপ্লব সরকার ও তার ভাই বিপুল সরকারের পাসপোর্টের নথি বাজেয়াপ্ত করেন তদন্তকারীরা। জানা যাচ্ছে তাঁরা অবৈধভাবে ভারতে এসে ইন্দুভুষণকে ধরে এই পাসপোর্ট তৈরি করে। এমনকী তাদের বাবার  জন্যও জাল ভারতীয় নথি তৈরি করে দিয়েছিল ওই অভিযুক্ত।  এরপরই তিনজনকে আটক করে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। দুই ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, তারা ইন্দুভুষণের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। বাংলাদেশ থেকে লোকজন নিয়ে এসে চক্রের পান্ডার কাছে নিয়ে যেতেন। টাকার বিনিময়ে তৈরি হতো পাসপোর্ট ও ভুয়ো নথি। বাংলাদেশি ছাড়া পাক নাগরিকরাও তাদের কাছে এসেছে বলে খবর। ঠিক কতজনের পাসপোর্ট তাদের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ