Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাশের জেলায় ইডির হানা, বুকে কাঁপুনি ধরেছে পুরুলিয়ার বালি কারবারিদেরও!

অবৈধ বালি পাচার কাণ্ডে রাজ্যের একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ইডি।

পাশের জেলায় ইডির হানা, বুকে কাঁপুনি ধরেছে পুরুলিয়ার বালি কারবারিদেরও!
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: অবৈধ বালি পাচার কাণ্ডে রাজ্যের একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ইডি। কলকাতা থেকে শুরু করে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামের একাধিক জায়গায় সোমবার তল্লাশি চালিয়েছে ইডির দল। ইডির হানায় বুকে কাঁপুনি ধরতে শুরু করেছে পার্শ্ববর্তী পুরুলিয়া জেলার অবৈধ বালি কারবারিদেরও। রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি পুরুলিয়া জেলাতেও অবৈধ বালি কারবারের রমরমা রয়েছে বলে অভিযোগ। বৈধ খাদানেও চলে অবৈধ কারবার! পাশাপাশি জেলায় প্রচুর অবৈধ খাদানও রয়েছে। অবৈধ কারবার রুখতে অভিযোগও পৌঁছেছে নবান্নে। যদিও তাতে অবৈধ কারবার বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ। এর পিছনে পুলিশ-প্রশাসনের একাংশেরও মদত রয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। 

Advertisement

কয়লার পরেই যে বস্তুটির চোরা কারবার এরাজ্যে সবচেয়ে বেশি চলে বলে অভিযোগ, সেটি বালি। পুরুলিয়া জেলাতেও এক সময় অবৈধ কয়লার কারবারের ব্যাপক রমরমা ছিল। তবে, ইডি সিবিআই-এর হানা এবং জেলা পুলিশের লাগাতার অভিযানে অবৈধ কয়লার করবার বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে। যদিও অবৈধ বালির করবারে ছেদ পড়েনি এখনও। পুরুলিয়া জেলার পুরুলিয়া-১, পুরুলিয়া-২, মানবাজার, পুঞ্চা, থেকে শুরু করে ঝালদাতেও বিভিন্ন সময় অবৈধ বালি কারবারের অভিযোগ উঠেছে। এই সমস্ত ব্লকে প্রচুর অনুমোদনহীন বালিঘাট রয়েছে বলে অভিযোগ। বর্ষার সময়টুকু ছাড়া রাতের অন্ধকারে সেইসব ঘাটে রমরমিয়ে বালি উত্তোলন চলে। ফলে একদিকে যেমন নদীর স্বাভাবিক গতিপথ নষ্ট হচ্ছে, তেমনই খারাপ হচ্ছে এলাকার গ্রামীণ রাস্তা।
অবৈধ বালির গাড়ি আটকায় না পুলিস কিংবা পরিবহণ দপ্তরের আধিকারিকরা? এক বালি কারবারির দাবি, রাস্তায় চেকিং থেকে রেহাই পেতে গেলে টাকা দিয়ে নদীর পাড় থেকেই কিনতে হয় ‘টোকেন’। রাস্তায় পুলিস কিংবা প্রশাসনের কেউ আটকালে টোকেন দেখালেই সাত খুন মাফ! টোকেনের ভরসাতেই বালিবোঝাই গাড়ি নির্বিঘ্নে পৌঁছে যায় গন্তব্যে। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রশাসনের একাংশও অবৈধ বালি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিশে রয়েছে। সেই কারণেই এত ‘সুষ্ঠভাবে’ অবৈধ কারবার চালাতে পারে ব্যবসায়ীরা। পুরুলিয়া জেলার বিশেষত মানবাজার মহকুমার অবৈধ বালিঘাটগুলির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে শাসক দলের এক ‘দাপুটে’ নেতার। তাঁর আশীর্বাদের হাত মাথায় নিয়েই বুক ফুলিয়ে করবার চালিয়ে যাচ্ছে মাফিয়ারা। 
অবৈধ ঘাটের পাশাপাশি বৈধ ঘাটগুলিতেও অবৈধ করবার চলে বলে অভিযোগ। যে অংশে বালি তোলার কথা তার থেকে অনেক বেশি এলাকাজুড়ে বালি তোলা হয়। যন্ত্র দিয়ে বালি তোলার নিয়ম না থাকলেও তা মানা হয় না। আবার চালান না থাকা গাড়িও টোকেনের ভরসায় বের করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেইসঙ্গে ওভারলোডিং তো রয়েইছে। অথচ, রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। যদিও প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, অবৈধ কারবারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান জারি রয়েছে।  
বিজেপির জেলা নেতা গৌতম রায় বলেন, পুলিশ প্রশাসনকে হাত করে শাসক দলের এক শীর্ষ নেতা এই অবৈধ কারবার চালাচ্ছেন। ওই নেতা প্রশাসনিক পদে থেকে পদের অপব্যবহার করছেন। আশা করছি, ইডি শীঘ্রই পুরুলিয়া জেলাতেও অভিযান চালাবে। 
তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, যেহেতু নির্বাচন সামনে আসছে, তাই ইডির এই লম্ফঝম্প শুরু হয়েছে। তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে না পেরে উঠে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করছে বিজেপি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ