নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: জামালপুর থানার কাছে মুদির দোকান মালিক আপন মনে জিনিসপত্র গোছাচ্ছিলেন। শরৎকালের দুপুরে কড়া রোদ। রাস্তায় তেমন লোকজন নেই। হঠাৎ করেই গটগটিয়ে ঢুকে পড়লেন এক ব্যক্তি। ধমকের সুরে দোকান মালিককে বললেন, আপনি ট্যাক্স দিচ্ছেন না কেন। আপনার তিন-চার বছরের ট্যক্স বাকি আছে। দোকান বন্ধ করুন। সব খাতা দেখব। আমি ইডি অফিসার। তাড়াতাড়ি করুন।
ইডি অফিসার শুনে মুদির দোকানের মালিকের কালঘাম ছোটার অবস্থা। তাড়াতাড়ি দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করে তাঁকে দোকানের ভেতর ডেকে নেন তিনি। কোল্ড ড্রিঙ্কস অফার করেন। খাওয়া-দাওয়ার পর ‹ইডি অফিসার› মনোযোগ দিয়ে খাতা দেখা শুরু করলেন। কিছুক্ষণ পর বললেন তোমার ১৫ হাজার ৩০০ টাকা ট্যাক্স বাকি আছে। ট্যাক্স বাকি থাকার রসিদ দেন। কথা না বাড়িয়ে বাড়ি থেকে টাকা এনে তাঁর হাতে তুলে দেন তিনি। এরপরই› ইডি অফিসার› বাইক চালিয়ে দ্রুতগতিতে চলে যায়। তখন হুঁশ ফেরে মুদির দোকানের মালিকের। ইডি অফিসার বাইক চালিয়ে আসবে কেন? মনে সন্দেহ দানা বাধে। এরপর রসিদ খতিয়ে দেখেন। তাতেও খটকা লাগে। পুরো বিষয়টি তিনি ঘনিষ্ঠ একজনকে জানান। তিনি তাকে জামালপুর থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেন। পুলিশ জানিয়ে দেয়, আপনি প্রতারিত হয়েছেন। কোনও ইডি অফিসার আসেনি। প্রতারক এসেছিল। মাথায় হাত পড়ে যায় মুদির দোকানের মালিকের। তিনি প্রতারণার মামলা করেন। পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে প্রতারককে চিহ্নিত করেছে। মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অভিষেক মণ্ডল বলেন, আমরা যাকে সন্দেহ করেছি তাকে বাঁকুড়ার জয়নগর থানার পুলিশ অন্য একটি কেসে গ্রেপ্তার করেছে। তাকে আমরা হেফাজতে নেব। কয়েকদিন আগে ওই ব্যক্তি জামালপুরে প্রতারণা করার পর বাঁকুড়ায় যায়। সেখানেও প্রতারণা করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তর বয়স প্রায় ৬০ বছর। বিভিন্ন জায়গাতেই কখনও ইডি আবার কখনও সিবিআই অফিসার পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করেছে।