নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বছর ঘুরলেই বিধানসভা ভোট। তার আগে যথারীতি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সির নড়াচড়া শুরু হয়েছে বাংলায়। পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করে ইডি। তারাতলায় একটি বেসরকারি কোম্পানির অফিস এবং লেকটাউনে ওই সংস্থার মালিকের ফ্ল্যাটে পৌঁছে যান তদন্তকারীরা। তাঁরা আগেই জেনেছিলেন, তারাতলার অফিসে অনেক টাকা রাখা আছে। কিন্তু আলমারি খুলে লকার হাতড়িয়ে মেলেনি কিছুই। শেষ পর্যন্ত তাঁরা খেয়াল করেন, আলমারি ও ড্রয়ারের নীচে আলাদা আলাদা খাপ করা রয়েছে। সেগুলি খুলতেই তাঁদের চোখ কপালে ওঠে! থরে থরে সাজানো রয়েছে ৫০০ টাকার নোট। গুনে দেখা যায়, প্রায় তিন কোটি টাকা! আর লেকটাউনের ফ্ল্যাটে আলমারির ভল্ট থেকে উদ্ধার হয় গুচ্ছ গুচ্ছ সোনার অলংকার। সব মিলিয়ে যার বর্তমান বাজারমূল্য ১০ কোটি টাকার বেশি। বিপুল পরিমাণ টাকা ও সোনার উৎস কী, তার কোনও সদুত্তর কোম্পানির কর্ণধার দিতে পারেননি বলেই দাবি তদন্তকারী এজেন্সির। তাই প্রায় ১৩ কোটির নগদ ও সোনা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলেঘাটা, লেকটাউন, তারাতলা সহ ছ’টি জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। তারাতলায় বেসরকারি সংস্থার অফিস থেকে বাজেয়াপ্ত টাকার উৎস খুঁজতে গিয়ে তদন্তকারীরা জেনেছেন, গত দু-তিন বছরে এই কোম্পানিতে বিপুল পরিমাণ নগদ ঢুকেছে। বস্তায় টাকা ভরে গাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। ইডির সন্দেহ, এই টাকার সবটাই পুর নিয়োগ দুর্নীতির সূত্রে এসেছে। আধিকারিকদের দাবি, তাঁরা ওই কোম্পানির শেষ পাঁচ বছরের আয়কর রিটার্ন পরীক্ষা করে দেখার পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। তাছাড়া, কোম্পানিটি যে ব্যবসা করে, তাতে নগদে লেনদেনের কোনও সুযোগ নেই। এই টাকা ঘুরপথে তারাতলার অফিসে এসে পৌঁছেছে। তদন্তকারীদের আরও চমকে দেয় লেকটাউনের ফ্ল্যাট থেকে ১০ কোটি টাকা মূল্যের সোনার অলংকার উদ্ধারের ঘটনা। যার সঙ্গে আয়কর রির্টানের কোনও সঙ্গতি নেই।
ইডি কর্তাদের দাবি, এই কোম্পানিতে প্রতিদিন গুচ্ছ গুচ্ছ কালো টাকা এসেছে বিভিন্ন জায়গা থেকে। সেই টাকা তারাতলার অফিসে রাখা হত। নগদ নিয়ে আসার জন্য বিশ্বস্ত দু’জন লোক ছিল। প্রভাবশালী এক ব্যক্তির কাছে থাকা পুর নিয়োগ দুর্নীতির কালো টাকা এখানে গচ্ছিত রাখা হত বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা। সেই টাকার একাংশ দিয়েই সোনার অলংকার কেনা হয়। কলকাতার যে সমস্ত দোকান থেকে সোনা কেনা হয়েছে, তার ভাউচার ইতিমধ্যে তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। শীঘ্রই সেই দোকানগুলিতে গিয়ে ইডি আধিকারিকরা মালিকের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানা গিয়েছে।