নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৫০ কোটি টাকার লেনদেন এবার ইডির নজরে। এই টাকা কোথা থেকে এসেছে এবং কীভাবে খরচ হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। সেই তদন্তে মঙ্গলবার কলকাতা ও সল্টলেক মিলিয়ে মোট পাঁচটি জায়গায় তল্লাশি চালান ইডির আধিকারিকরা। এর মধ্যে রয়েছে একটি বেসরকারি বিমান সংস্থাও, যারা বিভিন্ন ভিভিআইপিসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চাটার্ড বিমান ভাড়া দিয়ে থাকে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি।
ইডি সূত্রে খবর, মঙ্গলবার লালবাজার সংলগ্ন রাধাবাজার এলাকায় একটি বেসরকারি উড়ান সংস্থার অফিসে হানা দেন তদন্তকারীরা। ওই সংস্থার মালিকের বাড়ি সল্টলেকে। সেখানেও পৌঁছে যায় টিম। সেই সঙ্গে নিউটাউনের আরও দু’টি অফিসে তল্লাশি চলে। মধ্য কলকাতায় এক সিএ’র বাড়িতে যান তদন্তকারীরা। ইডি সূত্রে খবর, ওই উড়ান সংস্থার একাধিক এজেন্সি রয়েছে। তারা মূলত ভ্রমণ ও পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয় দেখভাল করে। জানা যাচ্ছে, তৃণমূলের বিভিন্ন পদাধিকারী এই সংস্থার বিমান ভাড়া করতেন। ট্যুর প্ল্যান করত ওই কোম্পানি। এই সংস্থার ভাড়া মেটানো হয়েছে তৃণমূলের দলীয় অ্যাকাউন্ট থেকে। সংস্থার কাছ থেকে তদন্তকারীরা জানতে চান, ঘণ্টা পিছু তাদের কত চার্জ রয়েছে। বুকিংয়ের পদ্ধতি কী? সূত্রের খবর, তৃণমূলের ভাড়া করা উড়ানের জন্য খরচ বেশি দেখিয়ে অ্যাকাউন্টে জমা পড়া দুর্নীতির টাকা পূর্বতন শাসকদল পাচার করেছে কি না, সেটাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তৃণমূলের এই অ্যাকাউন্টে টাকা কোথা থেকে এসেছে, তার সূত্রও খুঁজছে এজেন্সি।
এদিকে, ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় আরও বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর এজলাসে রাজ্যের তরফে অভিষেকের বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ করেন অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার। তা শুনে বিচারপতি ভট্টাচার্য মৌখিক নির্দেশে বলেন, ৩১ জুলাই পর্যন্ত রক্ষাকবচ রয়েছে। অভিষেককে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষার জন্য নোটিস পেলে হাজিরা দিতে হবে। শুক্রবার মামলাটি শুনবে আদালত। অন্যদিকে, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার আবেদনের প্রেক্ষিতে তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ সংক্রান্ত মামলাটির শুনানি বুধবারের পরিবর্তে বৃহস্পতিবার হবে বলে জানিয়েছে আদালত।