নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত, বারাকপুর ও কলকাতা: ২০২৩ সালে বিহারে কনস্টেবল নিয়োগ কেলেঙ্কারির তদন্তে দেশজুড়ে চলল ইডির তল্লাশি অভিযান। বৃহস্পতিবার সাতসকালে পাটনা, নালন্দা, রাঁচি, লখনউ, কলকাতা, মধ্যমগ্রাম সহ ১১টি জায়গায় একযোগে চলে অভিযান। ইডি সূত্রে দাবি, বিহারের কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রেও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এতে টাকার লেনদেনও হয়। তারই তদন্ত করছে ইডি। সংশ্লিষ্ট মামলায় অভিযুক্তদের সঙ্গে ২০২৪ সালের নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের যোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ‘মাস্টারমাইন্ড’ নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসেও যুক্ত। এদিন, মধ্যমগ্রাম পুরসভার গঙ্গানগরের ১৪২ নম্বর ওল্ড যশোর রোডের ধারে মিত্র কমপ্লেক্সে একটি ছাপাখানায় চলে তল্লাশি। কমপ্লেক্সের ভিতরে কয়েকটি ছাপাখানা রয়েছে। প্রধান গেটটি সবসময়ই বন্ধ রাখা হয়। ছাপাখানার কর্মী বা কাজের প্রয়োজনে ছাড়া গেট খোলা হয় না। একবছর পর ফের বৃহস্পতিবার মধ্যমগ্রামের ওই ছাপাখানায় অভিযান চালান ইডির আধিকারিকরা। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে কত টাকার আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, সেই সব খতিয়ে দেখতেই এদিন সকালে ওই ছাপাখানায় এসে তদন্ত চালিয়েছেন ইডির কর্তারা। পাশাপাশি এদিন পার্ক স্ট্রিট এবং আলিপুরেও ইডি অভিযান চালায়। অন্যদিকে, এদিন সকালে ইছাপুরের লক্ষ্মীনাথনগর এলাকায় এক ব্যবসায়ী বাড়িতে ইডির তল্লাশি হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে নমিতা কর নামে ব্যবসায়ীর বাড়িতে আচমকা হানা দেন ইডির তদন্তকারী আধিকারিকরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যবসায়ী ও তাঁর পরিবার বর্তমানে ওই বাড়িতে থাকেন না। ব্যবসায়িক সূত্রে তাঁরা অন্যত্র থাকেন। তবে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকে একাধিক পরিবার। এমনকী কয়েকটি কোম্পানির অফিস রয়েছে ওই বাড়ির একতলায়। এদিন ইডি আধিকারিকরা ওই বাড়িতে ঢুকে একটি কোম্পানির অফিসের কাগজপত্র খতিয়ে দেখেন। সূত্রের খবর, ব্যাঙ্কের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত গরমিলের বিষয়ে তদন্ত করতেই এদিন তদন্তকারীরা হাজির হন ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে। যদিও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে ওই ব্যবসায়ীর কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিন তল্লাশি চালিয়ে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ইডি আধিকারিকরা উদ্ধার করে নিয়ে যান বলে জানা গিয়েছে।



