Bartaman Logo
২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাংলাদেশে গম পাচারের ৬ বছরের পুরানো মামলায় ১৫টি স্থানে তল্লাশি ইডির, বাজেয়াপ্ত বিপুল নগদ ও গয়না

পশ্চিমবঙ্গে ভোটের মুখে আবার সক্রিয় ইডি। ২০২০ সালে রেশনের গম বাংলাদেশে পাচারের মামলায় এতদিনে ঘুম ভেঙেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সির।

বাংলাদেশে গম পাচারের ৬ বছরের পুরানো মামলায় ১৫টি স্থানে তল্লাশি ইডির, বাজেয়াপ্ত বিপুল নগদ ও গয়না
  • ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ভোটের মুখে আবার সক্রিয় ইডি। ২০২০ সালে রেশনের গম বাংলাদেশে পাচারের মামলায় এতদিনে ঘুম ভেঙেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সির। শুক্রবার কাকভোর থেকে কলকাতা, হাওড়া, বনগাঁসহ মোট ১৫টি জায়গায় তল্লাশি অভিযানে নেমেছে তারা। কিন্তু এতদিন কেন তল্লাশি হয়নি? এই প্রশ্নে নিশ্চুপ এজেন্সির আধিকারিকরা। শাসক দলের বক্তব্য, মোদি-শাহের নির্দেশেই ইডি ভোটের আগে ময়দানে নেমেছে শাসক দলকে টাইট দিতে। এই তল্লাশিতে  প্রায় ৩১ লক্ষ  টাকা নগদ ও সোনার অলংকার মিলেছে বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি হুগলির জাঙ্গিপাড়ায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে এদিন আয়কর দপ্তর তল্লাশি চালায়। তাঁর চাল ও গোরুর ব্যবসা। 

Advertisement

২০২০ সালে কোভিডকালে রেশনের গম বাংলাদেশে পাচার হচ্ছিল উত্তর ২৪ পরগনার ঘোজাডাঙা সীমান্ত দিয়ে। ডিআরআই ও কাস্টমস যৌথ তল্লাশি চালিয়ে ৫১০০ মেট্রিক টন গম উদ্ধার করে। ১৭৫টি লরিতে এই মাল পাঠানো হচ্ছিল। ডিআরআই কেস রুজু করে। সরকারের তরফে গম মিলগুলিতে পাঠানো হত আটা তৈরি করে দেওয়ার জন্য। সেই সরকারি গমের বস্তা চুরি করে পাঠানো হচ্ছিল। পরে এই মামলার তদন্তভার নেয় ইডি। পাচার করে আসা টাকা কোথায় এবং কার কাছে রয়েছে, তা জানতে ২০২০ সালের শেষ দিকে তারা বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালায়। তারপর এই কেস নিয়ে এতদিন কোনো পদক্ষেপই করেনি এজেন্সি। ভোট আসতেই এই মামলা নিয়ে আবার অতিসক্রিয় তারা।  
শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতা হাওড়া, বনগাঁ, মুর্শিদাবাদসহ ১৫টি জায়গায় তল্লাশি শুরু করে এজেন্সি। কলকাতার পোদ্দার কোর্টে একটি ফুড প্রোডাক্টের অফিসে হানা দেন তদন্তকারীরা। ওই ঠিকানায় আরও চার-পাঁচটি অফিস ছিল। মিন্টো পার্কের এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পাশাপাশি রানিগঞ্জে দুই ব্যবসায়ীর বাড়ি। বনগাঁয় এক হোটেল মালিকের বাড়িতে তল্লাশি চলে। ইডির দাবি, গম পাচারের টাকা তাঁদের কাছে এসেছে। তাঁদের একাধিক মিল রয়েছে। যেখানে সরকারি গম এসেছিল। মিলগুলি থেকে আটা তৈরি করে রেশনে পাঠানো হয়নি। বস্তা বস্তা গম পাচার করে দেওয়া হয় বাংলাদেশে। আর বিভিন্ন রেশন দোকানে কাঁকরযুক্ত  অত্যন্ত নিম্নমানের আটা পাঠানো হয়, যা রেশন দোকানে পৌঁছানোর পর তা আবার ঘুরপথে মিল মালিকদের কাছেই পৌঁছে গিয়েছে। সেগুলি আবার তাঁরা বাজারে বিক্রি করে টাকা রোজগার করেছেন বলে অভিযোগ। 
এর বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ টাকা মিল মালিকরা বিভিন্ন প্রভাবশালীদের কাছে পাঠিয়েছেন বলে জেনেছে ইডি। শুক্রবারের তল্লাশিতে কলকাতার ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ১০ লক্ষ টাকা মিলেছে বলে খবর। ইডি সূত্রে জানা যাচ্ছে, অন্য দুই ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ১১ লক্ষ ও ৮ লক্ষ টাকা। বনগাঁর হোটেল থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ ও জুয়েলারি মিলেছে। এর সঙ্গে লেনদেনের নথিসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ