নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: এক নতুন রূপ পেতে চলেছে শান্তিপুরের গঙ্গার তীর। ভিড় আর কোলাহল বাড়তে থাকা শহরের মানুষকে একটু স্বস্তি দিতে পুরসভার উদ্যোগে তৈরি হতে চলেছে সৌন্দর্যায়িত ইকোপার্ক। শহরের ১৬নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় আট কাঠা জমির উপরে এই পার্ক গড়ে উঠছে। পার্কের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। পুরসভার আশা, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দুর্গাপুজোর আগেই নবনির্মিত পার্কটির উদ্বোধন হবে। অম্রুত প্রকল্পে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে শিশুউদ্যান সহ ইকোপার্কটি তৈরি হচ্ছে। শহরের পানীয় জলপ্রকল্পের ইনটেক কেন্দ্রের পাশেই এই ‘নতুন আকর্ষণ’ সেজে উঠছে। সেখানে শিশুরা খেলাধুলো করতে পারবে। তাদের উপযোগী বিভিন্ন খেলার সরঞ্জাম থাকবে। পাশাপাশি বয়স্কদের জন্য থাকবে বসার বেঞ্চ এবং প্রাতঃভ্রমণের জায়গা।
শান্তিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ বলেন, যত দিন যাচ্ছে শহর ততই ঘিঞ্জি হয়ে উঠছে। তাই গঙ্গার ধারে এমন একটি জায়গার প্রয়োজন ছিল, যেখানে মানুষ প্রাণভরে একটু মুক্ত বাতাস নিতে পারবে। প্রকৃতির মাঝে কিছুটা সময় কাটাতে পারবে। মূলত শিশুউদ্যানের পরিকল্পনা হলেও এটিকে ছোটখাটো ইকোপার্ক হিসেবে সাজানো হচ্ছে। এখানে সব বয়সের মানুষই আসতে পারবে। কাজ প্রায় শেষের দিকে। সবকিছু ঠিকঠাক চললে পুজোর আগেই পার্কটি চালু করে দেওয়া যাবে। এছাড়াও আমরা ওয়ার্ডভিত্তিক কিছু কিছু সৌন্দর্যায়নের কাজ করছি। একটু একটু করে শহরকে সাজিয়ে তোলার চেষ্টা চলছে। বাইরে থেকে প্রচুর মানুষ এই শহরে বেড়াতে আসে। তাই সবদিক থেকে শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নের চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, শান্তিপুর পুরসভা গঙ্গার তীরবর্তী অঞ্চলগুলিকে ঘিরে একাধিক সৌন্দর্যায়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই পার্ক ছাড়াও এর আগে রাজ্যের বরাদ্দ টাকায় গুপ্তিপাড়া ঘাট সাজিয়ে তোলা হয়েছে। এবার পর্যটকদের সুবিধার জন্য গঙ্গার ধারে তৈরি হচ্ছে ঝকঝকে যাত্রী নিবাসও। স্বল্পমূল্যে পর্যটকরা সেখানে খোলামেলা পরিবেশে রাত কাটাতে পারবেন। প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই যাত্রী নিবাস তৈরি করছে পুরসভা। বহু ধর্মপ্রাণ মানুষ ঐতিহাসিক মন্দির আর প্রাচীন নিদর্শনের জন্য খ্যাত শান্তিপুরকে ‘ধাম’ বলে মানেন। নবদ্বীপের পাশাপাশি জেলার অন্যতম প্রধান তীর্থক্ষেত্র এই শহরে প্রতিদিনই দর্শনার্থীর ভিড় জমে। এতদিন এখানে রাত্রিযাপনের জন্য স্থায়ী বন্দোবস্ত ছিল না। তাই রাজ্যের বরাদ্দ টাকায় সেই যাত্রী নিবাস গড়ে তোলা হচ্ছে। শহরের অঞ্চলগুলি সৌন্দর্যায়নের নবতম সংযোজন এই পার্ক। -নিজস্ব চিত্র