


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘ভূতুড়ে ভোটার’ নিয়ে দেশের মধ্যে প্রথম সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। সেই অভিযোগ নিয়ে গত দু’দিন ধরে তোলপাড় সংসদ। ব্যাপক চাপে নির্বাচন কমিশন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে শেষপর্যন্ত এই ইস্যুতে তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে মুখোমুখি বসতে চাইলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তেমনটাই ইঙ্গিত করা হয়েছে। শুধু মমতা নন, চাপে পড়ে সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আলোচনায় ডেকেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। চাওয়া হয়েছে পরামর্শ। কমিশন বলেছে, রাজনৈতিক দলগুলির সভাপতি, বর্ষীয়ান নেতাদের সঙ্গে মুখোমুখি বসে আলোচনা করতে চাই। আর তা হবে রাজনৈতিক দলগুলির সময় মতোই। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে দলগুলি লিখিতভাবে তাদের প্রাথমিক বক্তব্য জানাতে পারবে ইআরও, ডিইও অথবা সিইও’র কাছে।
ভুয়ো ভোটার কার্ড ইস্যুতে তৃণমূলের দাবি আগেই মেনে নিয়েছে কমিশন। বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে এই ভুল শুধরে নেওয়া হবে। কমিশনের এই স্বীকারোক্তির পরেই ভুয়ো ভোটার কার্ড ইস্যুতে বিরোধীরা এককাট্টা। এদিন রাজ্যসভায় বিষয়টি উত্থাপন করে আলোচনার দাবি জানায় ওড়িশার প্রাক্তন শাসকদল নবীন পট্টনায়কের বিজেডি। তবে অনুমোদন মেলেনি। এরপরই ‘ওয়াক আউট’ করে সম্মিলিত বিরোধীরা।
এমনকী নির্বাচন কমিশনেও যান বিজেডি সাংসদরা। সাক্ষাৎ করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে। বিজেডির সাফ দাবি, ইভিএম ভোটের সঙ্গে ভিভিপ্যাটও গুনতে হবে। ভোট প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতায় করতে হবে নিরপেক্ষ অডিট। তৃণমূলের সঙ্গেও দেখা করেছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। যদিও সেই সাক্ষাতে সন্তুষ্ট নন বলেই বৈঠক থেকে বেরিয়ে জানান তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ছাড়াও ডেরেক ও’ব্রায়েন, কাকলি ঘোষদস্তিদার, কীর্তি আজাদ, সাজদা আহমেদের মতো ১০ তৃণমূল সাংসদ নির্বাচন সদনে যান। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের হাতে ছ’ পাতার একটি স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়।
তৃণমূল সাংসদদের প্রশ্ন, ‘ঠিক কত পরিমাণ ডুপ্লিকেট তথা ভুয়ো ভোটার কার্ড আছে? গত কয়েক বছর ধরে ভুয়ো কার্ডের কথা জেনেও কেন বিষয়টি নিয়ে চুপ ছিল কমিশন? তার মানে তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি চোখে আঙুল দিয়ে না দেখালে ভুয়ো কার্ডে ভোট চলতেই থাকত। ২০২৪ সালের লোকসভার ভোট নিরপেক্ষ হয়েছে তো?’ এমনকী আধার কার্ড ক্লোন করেও ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম ঢোকানোর অভিযোগ তুলছেন কল্যাণবাবুরা। ঘটনাচক্রে বঙ্গ বিজেপিও এদিন কমিশনে হাজির হয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত অন্যতম সহনেতা অমিত মালব্য এবং অন্য সাংসদরা। সুকান্তবাবু বলেন, সারা রাজ্যে ১৩ লক্ষ ৩ হাজার ৬৫ জন ভুয়ো ভোটারের জেলাওয়াড়ি তালিকা কমিশনের কাছে জমা দিয়েছি। আর্জি জানিয়েছি, প্রত্যেক বাড়িতে গিয়ে ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখুন।