সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: মাঠের শামুক খেলে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সম্প্রতি পাত্রসায়রের বালসি গ্রামের বিজ্ঞানের শিক্ষকের গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে। আর তাঁর গবেষণাকে মান্যতা দিয়েছে বিশ্বভারতী এবং কানাডার এক বিশ্ববিদ্যালয়। বালসি হাইস্কুলের শিক্ষক শুভাশিস পালের ওই গবেষণাপত্র একটি আন্তর্জাতিক রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, ইউজিসি শুভাশিসবাবুর গবেষণাকে এক্সট্রা অর্ডিনারি বলে আখ্যা দিয়েছে। বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে তাঁকে পিএইচডি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে।
শুভাশিসবাবু বলেন, আজকাল চাষের জমিতে অত্যধিক পরিমাণে কীটনাশক প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ধানের জমিতে থাকা শামুক কুড়িয়ে বহু মানুষ তা রান্না করে খান। হাটে বাজারে তা বিক্রিও হয়। অনেকেই তা কিনে খান। কিন্তু ওই শামুকের খোলের ভেতরে থাকা মাংসের ভেতরে ক্লোরপাইরিফস নামক কীটনাশকের উপস্থিতি আমাকে ভাবিয়ে তোলে। ক্লোরপাইরিফস মানুষের শরীরে খাবারের সঙ্গে গেলে ক্যানসারের মতো মারণ রোগ সৃষ্টি হতে পারে। গবেষণায় সেই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তাই এ ব্যাপারে মানুষ সচেতন হলে আমার গবেষণা সার্থক হবে।
শুভাশিসবাবু গত কয়েক বছর ধরে বালসি এলাকায় জীববৈচিত্র নিয়ে কাজ করছেন। তা করতে গিয়েই তিনি দেখেন বর্তমানে ধানের জমিতে প্রচুর কীটনাশক প্রয়োগ হচ্ছে। সেই মাঠ থেকেই শামুক কুড়িয়ে সাধারণ মানুষ তা রান্না করে খাচ্ছেন। সেটা শুভাশিসবাবুর মনে চিন্তা ধরায়। এরপর তিনি চাষের জমিতে থাকা শামুকের খোলের ভেতরে থাকা মাংস নিয়ে পরীক্ষাগারের পাত্রে ফেলেন। তিনি দেখেন শামুকের ওই মাংস বিষে ভরা। এরপর তিনি তা আরও ভালোভাবে পরীক্ষা করার জন্য উন্নত পরীক্ষাগারে পাঠান। সেখানেও কীটনাশক প্রয়োগ করা ধানের জমিতে থাকা শামুকের খোলের ভেতরের মাংসে ক্লোরপাইরিফস নামক কীটনাশকের উপস্থিতি দেখা যায়। গোটা পরীক্ষা প্রক্রিয়াটি নিয়ে তিনি গবেষণাপত্র তৈরি করেন। এবং তার ভিত্তিতে তাঁকে বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে পিএইচডি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে।
শুভাশিসবাবু বলেন, চাষের জমিতে অর্গানোফসফেট জাতীয় রাসায়নিক অত্যধিক মাত্রায় প্রয়োগের ফলে তা অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের উপর প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে ধানের জমিতে গ্রামবাংলা প্রচলিত ‘গেঁড়ি শামুক’ খেলে মানুষের শরীরে স্নায়বিক বৈকল্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, হরমোন নি:সরণকারী গ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, জনন ক্ষমতা হ্রাস, পেট ও অন্ত্রের সমস্যা, জিন ভেঙে যাওয়া ছাড়াও ক্যানসারের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরে ওই শামুক খেলে তা মানুষের শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়বে।