Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাঁ চকচকে ফোর লেনে সহজ যাতায়াত আরামবাগ-কলকাতা, উন্নয়নে আস্থা রাখবে আরামবাগ, পুরশুড়া

রাস্তার বেহাল অবস্থার স্মৃতি এখনো অনেকেরই মনে রয়েছে। সেই রাস্তাই এখন আমূল বদলে গিয়েছে। ঝাঁ চকচকে ফোর লেনে সহজ হয়েছে আরামবাগের সঙ্গে কলকাতার সংযোগ

ঝাঁ চকচকে ফোর লেনে সহজ যাতায়াত আরামবাগ-কলকাতা, উন্নয়নে আস্থা রাখবে আরামবাগ, পুরশুড়া
  • ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:০৪
Prefer us on Google

রামকুমার আচার্য, পুরশুড়া: রাস্তার বেহাল অবস্থার স্মৃতি এখনো অনেকেরই মনে রয়েছে। সেই রাস্তাই এখন আমূল বদলে গিয়েছে। ঝাঁ চকচকে ফোর লেনে সহজ হয়েছে আরামবাগের সঙ্গে কলকাতার সংযোগ। ফোর লেনের মাঝের বেহাল অংশেও বসেছে কংক্রিটের ব্লক। গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য সড়কে যান চলাচলের গতি বাড়ায় সুবিধা মিলছে আরামবাগ মহকুমাবাসীর। এবারের বিধানসভা ভোটের ময়দানে রাজ্য সরকারের অন্যান্য উন্নয়নের পাশাপাশি আরামবাগ, পুরশুড়ায় এই ফোর লেনও তৃণমূলের প্রচারের হাতিয়ার। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পথসভা সবেতেই তৃণমূল নেতৃত্বের গলায় ফোর লেনের কথা উঠে আসছে। তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছে,  রাজ্যের উন্নয়নে আস্থা রাখবে আরামবাগ ও পুরশুড়ার মানুষ।

Advertisement

তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দী বলেন, আরামবাগ থেকে কলকাতা যাওয়ার পথ আগে অত্যন্ত বেহাল ছিল। যাতায়াতে দীর্ঘ সময় লাগত। কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পরই আরামবাগ থেকে চাঁপাডাঙা পর্যন্ত ফোর লেন তৈরিতে প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেন। এখন ওই রাস্তাই আরামবাগের লাইফ লাইন হয়ে গিয়েছে। মানুষের কাছে আমরা দিদির উন্নয়নের বার্তাই পৌঁছে দিচ্ছি। জিতলে আরও উন্নয়ন হবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। 
পালটা পুরশুড়ার বিজেপি প্রার্থী বিমান ঘোষ বলেন, রাজ্য সরকার পুরো রাস্তাটি ফোর লেন করতে পারেনি। যা বরাদ্দ হয়েছে তার থেকে তৃণমূলের পকেটে ঢুকেছে কমিশন। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে রাস্তা সহ নাগরিক পরিষেবাকেই অগ্রাধিকার দেবে।
আরামবাগের মায়াপুর এলাকায় তেলেভাজার দোকান রয়েছে কাজল দাসের। রাস্তা সম্প্রসারণের জেরে তাঁর দোকানের একাংশ ভাঙা পড়ে। তারফলে এখন দোকানের পরিসর কিছুটা ছোটো হয়ে গিয়েছে। কিন্তু, রাস্তার আমূল সংস্কার হওয়ায় দোকান ছোটো হলেও তাঁর কোনো আক্ষেপ নেই। তিনি বলছিলেন, দোকানের সামনের রাস্তা অত্যন্ত বেহাল ছিল। আমার দোকানের একাংশ ভাঙা পড়লেও রাস্তা ভালো হওয়ায় সকলের সুবিধা হয়েছে। 
আরামবাগের বাসিন্দা রূপম গোস্বামী বলেন, আরামবাগ থেকে চাঁপাডাঙা রাস্তা আগে দুই লেনের ছিল। ব্যস্ত রাস্তায় প্রায় ছোটো বড়ো দুর্ঘটনা ঘটেছে। একাধিক প্রাণ গিয়েছে। এখন সেই রাস্তা ফোর লেনের হওয়ায় যাতায়াতের সমস্যা অনেকটাই মিটেছে। ডানকুনি পর্যন্ত বাকি অংশের সম্প্রসারণ হলে আরও সুবিধা হবে। 
পূর্তদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগের বাসুদেবপুর মোড় এলাকা থেকে পুরশুড়া হয়ে চাঁপাডাঙা পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার ফোর লেন হয়েছে। মাঝে আরামবাগের জয়রামপুর থেকে মায়াপুর পর্যন্ত রাস্তাটি দুই লেনের থাকলেও গত কয়েক মাস ধরে আমূল সংস্কার হয়েছে। তাতেও সুবিধা হয়েছে বাসিন্দাদের। পুরশুড়ার সাঁওতা এলাকার এক যুবক বলেন, ফোর লেন হওয়ায় রাস্তার ধারে পরিকল্পিত বাজার বসছে। তারফলে অর্থনৈতিক উন্নতিও হচ্ছে এলাকায়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ