


শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: খাল খননের মধ্যে দিয়ে রাজস্ব আদায় করে গোটা রাজ্যে মডেল হয়ে উঠল পূর্ব মেদিনীপুর। নদী সংস্কারের মতোই খাল খননের জন্য সেচদপ্তর টাকা দেয়। সরকারি নিয়ম মেনে টেন্ডার ডেকে সেই টাকায় খাল কাটার কাজ হয়। প্রথাগত নিয়মের বাইরে গিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন ব্যতিক্রমী উপায় বের করে। এই কাজে যুক্ত করা হয় ওয়েস্ট বেঙ্গল মিনারেল ডেভেলপমেন্ট ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেডকে। ঠিক হয়, খাল কাটার জন্য কোনও সরকারি টাকা খরচ করা হবে না। বেসরকারি এজেন্সি নিয়োগ করে খাল কাটা হবে। সেই খাল থেকে তোলা মাটি বিক্রি করবে এজেন্সি। শুধু তাই নয়, সেই মাটির একটা অংশ পাবে প্রশাসন। প্রশাসনও একইভাবে মাটি নিলামে তুলে রাজস্ব পাবে। সেই টাকা সংশ্লিষ্ট এলাকার ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে বণ্টন করা হবে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের এই আবিষ্কার এখন গোটা রাজ্যে মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেতে চলেছে। অন্য জেলাতেও এই ফর্মুলায় খাল খনন করতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য। এই মর্মে বিভিন্ন জেলায় বিজ্ঞপ্তি পৌঁছেছে।
গত বছর বন্যায় পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া, কোলাঘাট ও শহিদ মাতঙ্গিনীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। সোয়াদিঘি, পায়রাটুঙ্গি, গঙ্গাখালির মতো গুরুত্বপূর্ণ খালগুলি মজে থাকায় প্রায় একমাস বহু জায়গায় সমস্যা হয়। এ নিয়ে মানুষের ভোগান্তির শেষ ছিল না। একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী ও পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বহুবার বন্যা কবলিত এলাকায় পৌঁছেছেন। মানুষজন খাল সংস্কারের জন্য উদ্যোগী হওয়ার কথা বলেছেন। এই দাবি পূরণ করতে একযোগে ১৩টি খাল খননের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। সরকারি টাকায় একসঙ্গে এতগুলি খাল সংস্কার সম্ভব নয়। এককালীন এত টাকাও পাওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে উপায় বের করলেন পূর্ব মেদিনীপুরের ডিএম। খাল খননের কাজে সেচ বিভাগকে নোডাল দপ্তর রেখেই ওই কাজে যুক্ত করা হল ওয়েস্টবেঙ্গল মিনারেল ডেভেলপমেন্ট ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেডকে। খাল কাটার জন্য এজেন্সি বাছতে ছিলাম ডাকা শুরু হয়। খাল থেকে তোলা মাটি দু’পক্ষ নিলামে তুলে বিক্রি করবে। এজেন্সি মাটি বিক্রি করে নিজেদের খরচ তুলবে। আর প্রশাসন মাটি বিক্রির টাকা সংশ্লিষ্ট এলাকার ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের মাধ্যমে উন্নয়নের কাজে লাগাবে।
পাঁশকুড়া, কোলাঘাট, শহিদ মাতঙ্গিনী ও তমলুক ব্লকে এই মুহূর্তে ১৩টি খাল খননের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সোয়াদিঘি, গঙ্গাখালি ও পায়রাটুঙ্গিতে খনন কাজ চলছে। এছাড়াও, কোলাঘাটের জঁফুলি, টোপা, দেনান, দেহাটি, ৪এ, ৪বি খাল ও ক্যানেলে খনন কাজ হবে। টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। একইভাবে পাঁশকুড়ার কামিনা, জয়গোপাল সহ মোট ১৩টি খাল খনন করা হবে। আগামী মে মাসে বর্ষার আগে খাল কাটা শেষ করতে উদ্যোগী প্রশাসন। খালের কোন অংশ কতটা খনন করা হবে, সেই ম্যাপ বানিয়ে দিচ্ছে সেচদপ্তর। টেন্ডার ডাকার কাজ সারছে মিনারেল ডেভেলপমেন্ট ট্রেডিং কর্পোরেশন।
জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, খাল কাটার জন্য সরকারি টাকা খরচ হচ্ছে না। বরং সেই মাটি থেকে রেভিনিউ সংগ্রহ হবে। সেই টাকা সংশ্লিষ্ট এলাকার ত্রিস্তর পঞ্চায়েত পাবে। খাল কাটার সময় দুই পাড়ে থাকা মানুষজনের কিছু সমস্যা হয়। রেভিনিউ থেকে সংগৃহীত টাকায় সেই সমস্যা সমাধান করতে পারবে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত।