শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: অতিবর্ষণে ধানের জমি থেকে পানের বরজ, ফুল ও সবজি খেত থেকে মাছের ভেড়ি, সব লণ্ডভণ্ড অবস্থা। ফলে পূর্ব মেদিনীপুরের অর্থনীতিতে বিরাট প্রভাব ফেলবে এই দুর্যোগ। জোর গতিতে আমন ধান রোয়ার কাজ চলছিল। সেই ধানজমি এখন জলের তলায়। অনেকের রোয়ার কাজ বাকি থাকলেও বীজতলা নষ্ট হয়ে গেল। একইভাবে নন্দকুমার, তমলুক, শহিদ মাতঙ্গিনী, রামনগর সহ বিভিন্ন জায়গায় পানের বরজ ক্ষতির মুখে পড়েছে। পাঁশকুড়া, কোলাঘাটে ফুলচাষেও এই দুর্যোগ বিরাট ক্ষতি করল। অনেক জায়গায় মাছের ভেড়ি ভেসে গিয়েছে। মৎস্যজীবীদেরও মাথায় হাত। কৃষি, মৎস্য ও উদ্যানপালনের সঙ্গে যুক্ত এই জেলার কয়েক হাজার চাষি ও মৎস্যজীবী ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন।
ভগবানপুর-১ ব্লকের কোটবাড় গ্রামের দেবব্রত মহাপাত্র প্রায় দু’বিঘা জমিতে আমন ধান রোয়ার কাজ ১১আগস্ট শেষ করেছেন। সব জমি জলের তলায়। জল নেমে যাওয়ার পর সব পচে নষ্ট হয়ে যাবে বলে দেবব্রতবাবু জানান। ওই গ্রামের বাসিন্দা শক্তিপদ শীর ১৬বিঘা মাছের ভেড়ি ভেসে গিয়েছে। প্রায় দু’টন ভেনামি চিংড়ি ছিল। রবিবার রাতে ভেড়ির তিনদিকের পাড় ধসে যায়। তারপর সব ভেনামি ভেসে গিয়েছে। চণ্ডীপুরের জালপাই, চৌখালি, ঈশ্বরপুর, ব্রজলালচক, দিবাকরপুর পঞ্চায়েত এলাকায় একচেটিয়া ধানের জমি, পানের বরজ, মাছের ভেড়ি সব জলের তলায়। জালপাই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অনিমেষ দাস বলেন, ভয়ঙ্কর অবস্থা। অধিকাংশ বাড়িতে জল ঢুকে গিয়েছে। মানুষজনের দুর্ভোগের শেষ নেই।
সোমবার পটাশপুর-১ ব্লকের আমগেছিয়ায় কেলেঘাই নদীবাঁধ মেরামতির কাজ করছিলেন উত্তর আমগেছিয়া গ্রামের সংগ্রাম মান্না ও স্বপন মাইতি। তাঁরা বলেন, সেচমন্ত্রী নদীতে স্পিডবোটে ঘুরে এবং বৈঠক করে কেলেঘাই নদীকে বাঁচাতে পারবেন না। কেলেঘাই নদী বাঁচাতে হলে সবার আগে লাঙলকাটা থেকে টেংরাখালি পর্যন্ত প্রায় ১৫কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আনুমানিক ৫০টি ইটভাটা নদীর দুই তীর থেকে উচ্ছেদ করতে হবে। এই কাজ করতে পারলে নিমেষে কেলেঘাই নদীর জল কমে যাবে। আমগেছিয়ায় নদীবাঁধ নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার অবসান ঘটবে। কিন্তু, এই কাজে সদিচ্ছা না দেখানো পর্যন্ত কেলেঘাই নদীর এই বেহাল ছবিটা বদলাবে না। আমাদের মতো নদীপাড়ের বাসিন্দাদের দুশ্চিন্তাও কাটবে না।
বেহাল নিকাশি এবং ঠিকমতো খাল ও নদী খনন না হওয়ায় এক রাতের বৃষ্টিতে পূর্ব মেদিনীপুরে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। টানা বৃষ্টিকে বন্যা পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা হলেও খনন ও নিকাশি সংস্কারের উদাসীনতা এরজন্য মূলত দায়ী। কেলেঘাই নদীতে প্রতি এক কিলোমিটার অন্তর বাঁশ ও কাঠের সাঁকো তৈরি হয়েছে। তারমধ্যে বেশকিছু অবৈধ। অর্থাৎ সেচদপ্তর কিংবা প্রশাসনের অনুমোদন নেই। তারপরও সেসব উচ্ছেদ হচ্ছে না। আবার, নদীর তীরে অসংখ্য ইটভাটা তৈরি হওয়ায় জলের গতি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। সরকার রেভিনিউ আদায় করলেও তার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
তমলুকের শহিদ মাতঙ্গিনী বিডিও অফিস জলমগ্ন।-নিজস্ব চিত্র