অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, কল্যাণী: ২৬ জুলাই, ২০০৩। জাকার্তার মাটিতে ইতিহাস গড়েন বাইচুং, মুসা, দেবজিৎরা। গর্বের আশিয়ান দিবসেই ডার্বির রং লাল-হলুদ। সায়ন, তন্ময়, লাকরা নিজেদের ছাপিয়ে গেলেন। মর্যাদার যুদ্ধে জিতে বিনোর ড্রেসিং-রুমে জয়োল্লাস। ম্যাচ শেষে তৃপ্ত কেরালাইট কোচের মন্তব্য, ‘সুপার সিক্সে থাকতে গেলে জেতা ছাড়া উপায় নেই। সেটাই বাড়তি মোটিভেশন। ডার্বি সম্মানের লড়াই। সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে পারাই আসল।’ অন্যদিকে, মোহন বাগান কোচ ডেগি কার্ডোজো যুক্তি সাজালেন। তাঁর মন্তব্য, ‘অভিজ্ঞতার কাছেই হার। তবে দলের খেলায় ম্যানেজমেন্ট অখুশি নয়। তাছাড়া এই মাঠও ডার্বি খেলার অনুপযুক্ত।’ কে বোঝাবে গতবারের মতো চলতি মরশুমেও সুপার সিক্স অনিশ্চিত।
মরশুমের প্রথম ডার্বি। বেলা গড়াতেই গমগমে কল্যাণী। ফ্যান পার্ক, ফুড পার্ক— কিছুই বাদ ছিল না। সঙ্গে লেজার শোও। আর এমন সাজানো মঞ্চে আলো ছড়াল লাল-হলুদ ব্রিগেড। মর্যাদার লড়াই জিতে কলকাতা লিগে অক্সিজেন পেয়ে গেল বিনো জর্জের দল। ম্যাচের নায়ক বঙ্গসন্তান সায়ন ব্যানার্জি। তাঁকে নিয়ে ময়দানে প্রচুর আক্ষেপ। প্রতিভার প্রতি সুবিচার করতে ব্যর্থ তিনি। এদিন সেই সায়নই তুর্কি নাচন নাচালেন। বরফ শীতল মাথায় দুরন্ত গোল অন্যতম সেরা। ম্যাচের পর নায়কের মুখে পরিবারের কথা। সায়ন বললেন, ‘আমার কেরিয়ারে বাবা মায়ের অবদান প্রচুর। এই গোল তাঁদের উৎসর্গ করতে চাই।’ অন্যদিকে, ইস্ট বেঙ্গল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের মন্তব্য, ‘ডার্বি জিততে হিম্মত দরকার। টিম গেমে প্রতিপক্ষকে টেক্কা দিয়েছে ইস্ট বেঙ্গল।’
এদিন হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান জেসিন টিকে। আক্রমণে তিনিই তুরুপের তাস। আগামী বেশ কয়েকদিন বাইরে থাকতে হবে তাঁকে। ফলে চিন্তায় লাল-হলুদ শিবির। অন্যদিকে, ম্যাচের পর কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয় কল্যাণী স্টেশনে। বাড়ি ফেরার পথে রীতিমতো হাতাহাতিতে জড়ান দুই দলের সমর্থকরা। এমনকী ভিড়ের মধ্যে জার্সি ছেঁড়ার অভিযোগও ওঠে। আহত হন মোহন বাগানের কয়েকজন সমর্থক। শেষপর্যন্ত পুলিসি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।