শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: শেষ বাঁশি বাজতেই সন্ধ্যার আকাশে আতসবাজির আলপনা। গ্যালারিতে সহস্র রংমশাল। লাল-হলুদ আবিরমাখা মুখগুলো একে একে ফেন্সিং টপকে নেমে এল মাঠে। জেসিন-ডেভিডদের কাঁধে তুলে উদ্দাম নাচ শুরু। সায়নের হাতে দোল খাচ্ছে মানিকতলা বাজারের ইলিশ। অবাক চোখে সেদিকে চেয়ে বিষ্ণু বললেন, ‘এটাই কলকাতা ফুটবল। সবার সেরা। কখনও মনে হয় আইএসএল খেলার চেয়েও শক্ত..।’ কথা শেষ করতে পারলেন না কেরালাইট ফুটবলার। হারিয়ে গেলেন সমর্থকদের ভিড়ে। ঢাক, তাসা, মালা, উচ্ছ্বাস— পুজোর উৎসবের প্রাক্কালে উৎসবমুখর ইস্ট বেঙ্গল। সোমবার দুপুরে জমকালো অনুষ্ঠানে গতবারের লিগজয়ীদের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তার রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় খেতাব। ইউনাইটেড স্পোর্টসকে ২-১ গোলে বশ মানিয়ে চলতি মরশুমের শিরোপাও জিতল মশাল বাহিনী। সবমিলিয়ে ৪১ বার। ঠাসা ভিড়ে গলগলিয়ে ঘামছিলেন ঘরের ছেলে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য। বললেন, ‘ইস্ট বেঙ্গল জিতেছে। এই অনুভূতিই আলাদা।’
এদিন ড্র করলেই খেতাব নিশ্চিত ছিল বিনোর দলের। প্রথমার্ধে ডেভিডরা একগাদা গোল নষ্ট করলেন। ছ’গজ থেকে বিষ্ণুর শট বেলুনের মতো উড়ে গেল বাইরে। বাড়তে থাকা চাপ কমালেন ডেভিড। ৩৬ মিনিটে প্রায় ৪০ গজের লম্বা বল বাড়ান তন্ময়। দুরন্ত ফার্স্ট টাচ দেখালেন সায়ন। তাঁর শট ইউনাইটেড গোলরক্ষক রুখে দিলে ফিরতি বলে জাল কাঁপান ডেভিড (১-০)। মরিয়া ইউনাইটেড চাপ বাড়ায় দ্বিতীয়ার্ধে। মাঝমাঠে প্রশান্ত দাসকে নামিয়ে চাল দিলেন লালকমল ভৌমিক। এইসময় শ্রীনাথের হেড গোলে ঢোকার মুখে সেভ করলেন ইস্ট বেঙ্গল গোলরক্ষক গৌরব। পেনাল্টির দাবিও নাকচ করেন রেফারি। শেষপর্বে পরের পর নাটক। ৮৮ মিনিটে শ্রীনাথের সেন্টারে মাথা ছুইয়ে সমতা ফেরান অমিত বসাক (১-১)। পরক্ষণেই জয়সূচক গোল ইস্ট বেঙ্গলের। জেসিনের থেকে বল পেয়েছিলেন গুইতে। তাঁর শট ইউনাইটেড গোলকিপার প্রতিহত করার পর নিখুঁত প্লেসিংয়ে জাল কাঁপান শ্যামল বেসরা (২-১)।
এই নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার লিগ জিতলেন বিনো জর্জ। শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের মন্তব্য, ‘এই জয় সদস্য-সমর্থকদের উৎসর্গ করতে চাই। আরও শক্তিশালী দল গড়তে হবে।’
ইস্ট বেঙ্গল: গৌরব, জোসেফ, মনোতোষ, প্রভাত, বিক্রম, আমন (গুইতে), তন্ময় , নাসিব , সায়ন (আজাদ), বিষ্ণু (শ্যামল) ও ডেভিড (জেসিন)



