ইস্ট বেঙ্গল-৭ : নর্থ ইস্ট-২
ইস্ট বেঙ্গল-৭ : নর্থ ইস্ট-২
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কিশোর ভারতী এখন ইস্ট বেঙ্গলের পয়া মাঠ। কয়েক মাস আগে এই মাঠেই আইএসএল জিতেছিলেন রশিদরা। সোমবার আইএফএ শিল্ডের সেমি-ফাইনালেও মশাল জ্বলল দাউদাউ করে। নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডকে ৭-২ গোলে চূর্ণ করে ফাইনালে পৌঁছে গেল হাবাস ব্রিগেড। ডেভিডের হ্যাটট্রিকে ভর করে স্বপ্নের উড়ানে ইস্ট বেঙ্গল। পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত জয়। আগামী বৃহস্পতিবার শিল্ড ফাইনালে ফের ডার্বি। পুজোর আগেই মহারণ। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে খেতাব জয়ের দাবি উঠে গেল এদিনই।
গ্রুপ পর্বে মোহন বাগানকে রুখে দিয়েছিল নর্থ ইস্ট। তার উপর দারুণ ছন্দে ছিলেন মরক্কান গোলমেশিন আলেদাইন। এদিন শুরুতেই লাল-হলুদ সমর্থকদের ধুকপুকুনি বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। দর্শকরা সিটে গুছিয়ে বসার আগেই গোল। লাল-হলুদ রক্ষণের ভুল কাজে লাগিয়ে জাল কাঁপান সেই আলেদাইন(১-০)। এক্ষেত্রে দায় এড়াতে পারেন না জিভুলিচ। তবে প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে ১০ মিনিট সময় নিল হাবাস ব্রিগেড। রামিরেজ বল হোল্ড করতেই ঝলমলে ইস্ট বেঙ্গল। ম্যাচের ১২ মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান ডেভিড। ডান প্রান্ত থেকে ইকোনমিডিসের ভাসানো সেন্টার দুরন্ত হেডে জাল কাঁপান মিজো স্ট্রাইকার (১-১)। অস্কার জমানায় ব্রাত্য ছিলেন তিনি। কিন্তু এদিনের হ্যাটট্রিক অবশ্যই বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে। এরপর ২৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করলেন রোহিত কুমার (২-১)। রামিরেজের মাপা সেন্টারে পা ছুঁইয়ে লক্ষ্যভেদ সারেন তিনি। ২৯ মিনিটে বক্সে ডেভিডকে অবৈধভাবে বাধা দেওয়া হলেও রেফারির দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। এক্ষেত্রে নিশ্চিত পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয় ইস্ট বেঙ্গল। বিরতির আগে ৩-১ করলেন ইকোনমিডিস। বিপক্ষ ডিফেন্ডার পা হড়কালে অনায়াসে লক্ষ্যভেদ অজি ফুটবলারের। তাঁর ফর্ম দেখে হতাশ ছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। এদিনের পর কিছুটা হলেও চিন্তা কমবে হাবাসের।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের রোলার চালাল ইস্ট বেঙ্গল। বিষ্ণুর মাইনাস থেকে ফ্লিকে জাল কাঁপান ডেভিড (৪-১)। ৬০ মিনিটে সেই ইকোনমিডিস-ডেভিড কম্বিনেশনেই পঞ্চম গোল। ঠান্ডা মাথায় বাঁ পায়ের শটে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করলেন মিজো ফুটবলার (৫-১)। এরপর ঝুলি থেকে লোবা ও লুকাসকে বার করলেন আন্তোনিও হাবাস। ৮৫ মিনিটে অলেদাইন ব্যবধান কমালেও নর্থ ইস্টের দুর্দশা তখনও বাকি ছিল (২-৫)। রশিদের মাইনাস থেকে দুরন্ত সাইড ভলিতে নিখুঁত ফিনিশ লোবার (৬-২)। এমনকি লুকাসের গোলের ক্ষেত্রেও আসল কারিগর লোবাই। আইভরি কোস্টের ফুটবলার ফলস দিয়ে বিভ্রান্ত করলেন প্রতিপক্ষকে। অরক্ষিত লুকাস জাল কাঁপাতে ভুল করেননি (৭-২)। শেষ পর্বে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন নর্থ ইস্টের সামথ।
ইস্ট বেঙ্গল: লাচেনপা, হার্দিক (আসিফ), জিভুলিচ (রশিদ), লালচুংনুঙ্গা, সন্দীপ, জিকসন, বিষ্ণু, রোহিত, রামিরেজ (লোবা), ইকোনমিডিস (দানু), ডেভিড (জেলোনস্কি)।