অলোক মুখার্জি: চব্বিশ ঘণ্টা আগেই দিমিত্রি দিয়ানমানতাকোসকে রিলিজ করেছে ইস্ট বেঙ্গল। বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে সোশ্যাল সাইটে জোর চর্চা। আমিও বিস্মিত। গ্রিক স্ট্রাইকার ফর্মে নেই। মরশুমের শুরু থেকেই তাকে নিয়ে জোর জল্পনা। শোনা গিয়েছিল, দিয়ামানতাকোসকে ছেড়ে নতুন স্ট্রাইকার নেওয়া হবে। সেবার টিকে গেলেও দিমির চাকরি বেশিদিন স্থায়ী হল না। অদ্ভুত সিদ্ধান্তের মাথামুণ্ডু বোঝা দায়। দিমিকে আগে রিলিজ করে নতুন স্ট্রাইকার নেওয়াই যেত। সেক্ষেত্রে দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেত সে। এখন ফিফার ট্রান্সফার উইন্ডো শেষ। ফ্রি ফুটবলার ছাড়া জানুয়ারির আগে নয়া বিদেশি রিক্রুট অসম্ভব। সুপার কাপে অস্কারের স্কোয়াডে একমাত্র বিদেশি স্ট্রাইকার বলতে হামিদ। তবে কি টাকা বাঁচাতেই দিমিকে ছেঁটে ফেলা হল? যুদ্ধ বা আপদকালীন পরিস্থিতি ছাড়া ফুটবল বন্ধ হবে না। কিন্তু দল গোছানোর সেরা সুযোগ নষ্ট করল ইস্ট বেঙ্গল।
ইস্ট বেঙ্গলের মতো বড় দল চালাতে বুদ্ধির সঙ্গে আবেগও প্রয়োজন। দুঃখের বিষয়, লাল-হলুদের ইনভেস্টরদের কাছে সমর্থকদের গুরুত্ব নেই। কেন বলছি একথা? মোহন বাগান ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে মানসিকতার তফাত স্পষ্ট। ডুরান্ড কাপে হারের পর কোমর বেঁধে নেমেছে গঙ্গাপাড়ের ক্লাব। মেহতাব সিংয়ের যোগদানে আরও শক্তিশালী হোসে মোলিনার রক্ষণ। আপফ্রন্টে রবসনও গেমচেঞ্জার। এখানেই অনেক পিছিয়ে ইস্ট বেঙ্গল। দুই উইং ব্যাক রাকিপ ও লালচুংনুঙ্গা নড়বড়ে। স্টপগ্যাপ হিসাবে কাজ চালাতে পারে। কিন্তু কোনওমতেই অটোমেটিক চয়েস নয়। ম্যারাথন লিগে ওদের উপর ভরসা করলে ডুবতে হবে। অথচ সেখানেই ম্যানেজমেন্ট নিরুত্তাপ। জয় গুপ্তাকে ডুরান্ডে খেলনো হল না কেন? ব্যক্তিগত ধারণা, এক্ষেত্রেও দেরিতে চুক্তি করে টাকা বাঁচাল থিঙ্কট্যাঙ্ক। রাহুল ভেকে বা নিখিল পূজারির নাম ভাসলেও দিনের শেষে প্রাপ্তি শূন্য। দলে স্কোরারের অভাব স্পষ্ট। পার্থক্য গড়ার ফুটবলার নেই। ট্রফি জিততে গেমচেঞ্জার প্রয়োজন। সবজান্তা ইনভেস্টর কর্তা আর কবে বুঝবেন? দোহাই, লাভ-লোকসানের কাবুলিওয়ালা মার্কা মানসিকতা ঝেড়ে ফেলুন। না হলে এবারও সেই কপাল চাপড়াতে হবে।