সঞ্জয় সরকার, কলকাতা:
সঞ্জয় সরকার, কলকাতা:
ইস্ট বেঙ্গল- ৬ : ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স- ১
(হামিদ, বিপিন, আনোয়ার, রশিদ, সাউল, ডেভিড) (আমন)
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই গ্যালারিতে সেনাবাহিনীকে কুর্নিশ জানিয়ে ভেসে উঠল ব্যানার। তবে মাঠের লড়াইয়ে এয়ার ফোর্সের বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালাল ইস্ট বেঙ্গল। সেই সঙ্গে ২০১৯ সালের পর ডুরান্ড কাপের গ্রুপ পর্বে টানা তিন ম্যাচে জয়ের মুখ দেখল লাল-হলুদ ব্রিগেড। রবিবার কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সকে ৬-১ গোলে পরাস্ত করে অস্কার ব্রুজোঁর ছেলেরা। প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ইস্ট বেঙ্গলের জয়ের ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। তাই নক-আউটের লড়াইয়ে নামার আগে এই জায়গায় উন্নতি করাই লক্ষ্য থাকবে কোচ অস্কার ব্রুজোঁর। ম্যাচে লাল-হলুদ ব্রিগেডের হয়ে জাল কাঁপান হামিদ আহদাদ, বিপিন সিং, আনোয়ার আলি, মহম্মদ রশিদ, সাউল ক্রেসপো ও ডেভিড। এয়ার ফোর্সের একমাত্র গোলদাতা আমন খান। সামনে নক-আউট। গোলের ফুলঝুরি ছোটালেও ব্রুজোঁর রক্ষণ এখনও নিশ্ছিদ্র নয়।
প্রথম দু’ম্যাচে আপফ্রন্টে খুব একটা ভরসা জোগাতে পারেননি দিয়ামানতাকোস। তাই রবিবার তাঁকে বেঞ্চে রেখে হামিদকে শুরু থেকে খেলান অস্কার। গত ম্যাচে অভিষেকেই পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নেমে জাল কাঁপিয়েছিলেন মরক্কান স্ট্রাইকার। রবিবারও তাঁর লক্ষ্যভেদেই গোলের খাতা খোলে ইস্ট বেঙ্গল। ৭ মিনিটে বাঁদিক থেকে এডমুন্ডের ঠিকানা লেখা সেন্টার থেকে হেডে জাল কাঁপান হামিদ (১-০)। ২৫ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান বিপিন। মহেশের থ্রু পাস ধরে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল জালে জড়ান তিনি (২-০)। গোলের নেশায় অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হওয়ার খেসারতও গুনতে হয়েছে ইস্ট বেঙ্গলকে। ৩৬ মিনিটে ডানদিন থেকে ভাসানো সেন্টার থেকে হেডে এয়ার ফোর্সের হয়ে ব্যবধান কমান আমন খান (২-১)। এই গোলের ক্ষেত্রে দায় এড়াতে পারেন না আনোয়ার।
বিরতির পরও খেলার চালচিত্রে কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। এই পর্বে প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে হামিদের নামের পাশে হ্যাটট্রিক লেখা থাকত। ৬৩ মিনিটে স্কোরশিটে নাম তোলেন আনোয়ার। মিগুয়েলের ভাসানো কর্নার থেকে হেডে লক্ষ্যভেদ ভারতীয় ডিফেন্ডারের (৩-১)। দু’গোলের লিড পেতেই একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন অস্কার। মাঠে নামার তিন মিনিটের মধ্যেই স্কোরশিটে নাম তোলেন রশিদ। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া তাঁর শট জালে জড়ায় (৪-১)। এরপর ৮৫ মিনিটে গোল সাউল ক্রেসপোর। ডান প্রান্ত থেকে এডমুন্ডের শট প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক সেভ করলেও, ফিরতি বলে লক্ষ্যভেদে ভুল করেননি স্প্যানিশ মিডিও (৫-১)। আর সংযোজিত সময়ে প্রতিপক্ষের কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতেন ডেভিড (৬-১)।
ইস্ট বেঙ্গল: প্রভসুখন, লাকরা, আনোয়ার (ডেভিড), সিবলে, রাকিপ, জিকসন, এডমুন্ড, মহেশ (সাউল), মিগুয়েল (শৌভিক), বিপিন (বিষ্ণু) ও হামিদ (রশিদ)।