ইস্ট বেঙ্গল- ৭ : মহমেডান স্পোর্টিং-০
ইস্ট বেঙ্গল- ৭ : মহমেডান স্পোর্টিং-০
অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: মহমেডান স্পোর্টিংকে দেখলেই লাইফলাইন পেয়ে যান ইস্ট বেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। গত মরশুমে ছয় ম্যাচ হারের পর সাদা-কালো ব্রিগেডের বিরুদ্ধেই প্রথম পয়েন্ট পেয়েছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। আর সোমবার যুবভারতীতে সেই মহমেডান স্পোর্টিংকে সাত গোলের মালা পরিয়ে তিন ম্যাচ পর জয়ের সরণিতে ফিরল মশাল বাহিনী। জোড়া লক্ষ্যভেদ ইউসেফ এজেজ্জারি ও আনোয়ার আলির। এছাড়াও স্কোরশিটে নাম তোলেন সাউল, বিষ্ণু ও নন্দকুমার। উল্লেখ্য, এর আগে মহমেডানের বিরুদ্ধে ১৯৯৮ সালে ৭-১ ব্যবধানে জিতেছিল মশাল বাহিনী। সেক্ষেত্রে সোমবারের জয়ই ইতিহাসে স্থান পেল। দুর্বল মহমেডানকে পেয়ে রীতিমতো দাদাগিরি দেখাল অস্কার ব্রিগেড। ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে চতুর্থ স্থানে উঠে এল ইস্ট বেঙ্গল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহন বাগানের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান এখন মাত্র দুই (৬ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট)। লিগ টেবিলের তলানিতে মহমেডান। হারের ডাবল হ্যাটট্রিক তাদের স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
বিদেশিহীন মহমেডানের বিরুদ্ধে শুরুতেই দলকে এগিয়ে দেন আনোয়ার (১-০)। তাঁর দূরপাল্লার শট যেভাবে ফসকালেন মহমেডান গোলরক্ষক, তা পাড়ার ফুটবলেও দেখা যায় না। ১২ মিনিটে বক্সের মধ্যে মিগুয়েলকে ফাউল করেন সাজাদ। স্পটকিক থেকে লক্ষ্যভেদে ভুল করেননি ‘পেনাল্টি পার্সন’ এজেজ্জারি (২-০)। পর মুহূর্তেই তাঁর অবিশ্বাস্য মিস! তবে ব্যবধান বাড়ল ৩৪ মিনিটে। এই পর্বে বক্সে এডমুন্ডের জার্সি টেনে ইস্ট বেঙ্গলকে ফের পেনাল্টি উপহার জোসেফের। শুধু তাই নয়, রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি। স্পটকিক থেকে লক্ষ্যভেদে সফল সাউল (৩-০)।
বিরতির পর এডমুন্ডকে তুলে মহেশকে মাঠে নামান কোচ অস্কার। এই পর্বে ইস্ট বেঙ্গলের ডান প্রান্ত আরও সচল হয়। কিন্তু গোল আসে পেনাল্টি থেকেই। বক্সের মধ্যে মিগুয়েলকে ফাউল করেন পদম। এবারও স্পটকিক থেকে লক্ষ্যভেদ এজেজ্জারির (৪-০)। সেই সঙ্গে চলতি আইএসএলে সাতটি লক্ষ্যভেদে জেমি ম্যাকলারেনকে স্পর্শ করলেন তিনি। ৭৫ মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে বিষ্ণুর গোল (৫-০)। এরপর আনোয়ারের দ্বিতীয় গোলে ৬-০ করে ইস্ট বেঙ্গল। আর মেহরাজউদ্দিন ব্রিগেডের কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতেন নন্দকুমার (৭-০)। এর আগে আইএসএলে ২০২৩-২৪ মরশুমে নর্থ ইস্টের বিরুদ্ধে পাঁচ গোলে জিতেছিল ইস্ট বেঙ্গল। এদিন সেটা টপকে লিগের সর্বাধিক ব্যবধানে জয় তুলে নিলেন সাউলরা।
ইস্ট বেঙ্গল: প্রভসুখন, বিষ্ণু, অনোয়ার, জিকসন, রাকিপ, এডমুন্ড (মহেশ), ক্রেসপো (শৌভিক), রশিদ, বিপিন (নন্দকুমার), মিগুয়েল (অ্যান্টন), ইউসেফ (ডেভিড)।