Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

মোহন বাগানকে ৪ গোলের মালা, ডুরান্ড জয়ী ইস্ট বেঙ্গল, হ্যাটট্রিক এডমুন্ডের, ব্যান্ডমাস্টার রশিদ

দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন ব্রেক। হাজার হাজার মুঠোফোনের টর্চের আলোয় মায়াবি গ্যালারি। হঠাৎই তার মধ্যে জ্বলে উঠল মশাল।

মোহন বাগানকে ৪ গোলের মালা, ডুরান্ড জয়ী ইস্ট বেঙ্গল, হ্যাটট্রিক এডমুন্ডের, ব্যান্ডমাস্টার রশিদ
  • ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ইস্ট বেঙ্গল-৪                         :                মোহন বাগান-১
(বিপিন, এডমুন্ড-হ্যাটট্রিক)                                        (মনবীর)

Advertisement


সোমনাথ বসু, কলকাতা: দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন ব্রেক। হাজার হাজার মুঠোফোনের টর্চের আলোয় মায়াবি গ্যালারি। হঠাৎই তার মধ্যে জ্বলে উঠল মশাল। আগুনের দীপ্ত শিখায় বারুদভরা ঔদ্ধত্য। বয়সের ভেদাভেদ ভুলে আট থেকে আশির কণ্ঠে ইস্ট বেঙ্গলের জাতীয় সংগীত, ‘জার্সি মানেই আমার মা আর তো কিছুই জানি না/ সবুজ ঘাসে লড়াই করে ছিনিয়ে নেব জয়...’। ততক্ষণে ক্লান্ত, অবসন্ন শরীর বয়ে নিয়ে বাড়ির পথ ধরতে শুরু করেছেন মোহন বাগান অনুরাগীরা। তাছাড়া তাঁদের তো আর কিছুই করার নেই। ডুরান্ড ফাইনালে বারুদ ঠাসা ইস্ট বেঙ্গলের কাছে নতজানু পালতোলা নৌকা। ফলের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার ১৯৯৭’এর ১৩ জুলাই। ফেডারেশন কাপ সেমি-ফাইনালে বাইচুং ভুটিয়ার হ্যাটট্রিকের সৌজন্যে ৪-১ গোলে জিতেছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। এদিন বাইচুংয়ের ভূমিকায় এডমুন্ড লালরিনডিকা। আর নাজিমুল হক হলেন বিপিন সিং। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে হেলায় হারিয়ে ১৭তম ডুরান্ড কাপ ঘরে তুলল হাবাসের ইস্ট বেঙ্গল। 
২২ বছরের অপেক্ষার পর এল সেনাবাহিনীর খেতাব। পদ্মায় ভাসছে ইলিশ আর উৎসবে ইস্ট বেঙ্গল। রবিবার যোগ্য দল হিসাবেই জিতল তারা। শুরুতে মোহন বাগান পাসিং ফুটবল খেলার চেষ্টা করলেও তাতে কাঙ্ক্ষিত ঝাঁঝ ছিল না। ম্যাচের দশম মিনিটে খেলার গতির বিরুদ্ধেই ইস্ট বেঙ্গলের প্রথম গোল। রশিদের বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে বিপিনের বাঁ পা খুঁজে নিল জাল (১-০)। শুভাশিস তখন হামাগুড়ি দিতে ব্যস্ত! এই গোলের রেশ কাটার আগেই ব্যবধান বাড়াল হাবাস-ব্রিগেড। বক্সের বাইরে থেকে এডমুন্ডের শট মোহন বাগান ডিফেন্ডার রাহুল ভেকের পায়ে সামান্য ডিফ্লেক্ট করে জালে জড়ায় (২-০)। পরপর দু’টি গোল হজমের পর আপুইয়াদের আত্মবিশ্বাস তলানিতে। ব্যান্ডমাস্টার রশিদের নেতৃত্বে আক্রমণে আগুন ঝরাচ্ছে ইস্ট বেঙ্গল। বিপক্ষ মিডফিল্ডার ও ডিফেন্ডারদের মধ্যে ১৫-২০ গজ ফাঁক। প্রত্যেকে যেন বাড়ির বাগানে সান্ধ্যভ্রমণে বেরিয়েছেন! রশিদ-রামিরেজরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ভোলেননি। ১৯ মিনিটে লিস্টনের ফ্রি-কিক গিল ফিস্ট করে বাঁচাতেই ইস্ট বেঙ্গল গ্যালারির শব্দব্রহ্ম আকাশ ছুঁতে চাইল। 
মশাল বাহিনীর তৃতীয় গোল ২২ মিনিটে। যার দায় নিতে হবে আপুইয়াকে। তাঁর মিস ট্যাকলের জন্য বল পান হার্দিক। তারপর রামিরেজ হয়ে তা চলে আসে এডমুন্ডের কাছে। ডান পায়ের প্লেসিংয়ে ঠান্ডা মাথায় বিশালকে হার মানান তিনি (৩-০)। এই গোলের সঙ্গে সঙ্গেই গ্যালারিতে উসকে ওঠে পাঁচ গোলের স্মৃতি। ১৯৭৫’এর পুনরাবৃত্তির স্বাদ পেতে মরিয়া লাল-হলুদ গ্যালারি। কিন্তু সেই তাল কাটল মনবীরের গোলে। আপুইয়ার থেকে বল পেয়ে মোহন বাগানের উইঙ্গার বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে জাল কাঁপান (৩-১)। এরপর আনফিট ম্যাকলারেনের সহজ সুযোগ নষ্ট। বিরতির আগেই হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ এডমুন্ডের। বাঁদিক থেকে জয় গুপ্তার বাড়ানো বলে তাঁর লক্ষ্যভেদ (৪-১)। দ্বিতীয়ার্ধে মিগুয়েল, সাহাল ও কিয়ানকে নামিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন মোহন বাগানের কোচ পানাজিওটিস। কিন্তু বুদ্ধিমান হাবাস পজেশনাল ফুটবলে তাঁর পরিকল্পনায় জল ঢেলে দেন। মোহন বাগান গ্যালারিতে কান পাতলে তখন শোনা যাচ্ছে, সাহালকে কেন রাখা হল না প্রথম একাদশে? এই পর্বে বিপিনের শট বিশাল না রুখলে পাঁচ গোলের লজ্জা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হত (হয়তো ভারতও) পানোসকে। 
ম্যাচ শেষে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন সংলগ্ন এলাকায় ইলশেগুঁড়ি। খেলার ফলের সঙ্গে যা অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ। বাইপাসের বুক চিরে লাল-হলুদ অনুরাগীদের আনা ম্যাটাডোর ও মিনিডোরে তখন স্পর্ধার জয়গান, ‘মাঠের রাজা ইলিশ আর খেলাতে ফুটবল/ সেই খেলাতে সেরা দল আমার ইস্ট বেঙ্গল রে...।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ