Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ইস্ট বেঙ্গল ভারতসেরা

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লাল-হলুদের ঝড়ের নাম ইস্ট বেঙ্গল। মুঠো মুঠো আবির উড়ছে। ফেনসিংয়ের পাতলা জালে আছড়ে পড়ছে ক্লাব অন্তপ্রাণ অনুরাগীরা।

ইস্ট বেঙ্গল ভারতসেরা
  • ২২ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ইন্টার কাশী- ১                         :                           ইস্ট বেঙ্গল- ২

Advertisement

(আলফ্রেড)                                                    (এজেজ্জারি, রশিদ)
শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লাল-হলুদের ঝড়ের নাম ইস্ট বেঙ্গল। মুঠো মুঠো আবির উড়ছে। ফেনসিংয়ের পাতলা জালে আছড়ে পড়ছে ক্লাব অন্তপ্রাণ অনুরাগীরা। কিশোর ভারতীতে মশাল বাহিনীর শাপমুক্তি। প্রথম আইএসএল জিতে ভারতসেরা ইস্ট বেঙ্গল। কলকাতা ফুটবলের স্বপ্নের রাত আবেগ, কান্নায় মাখামাখি। স্পর্ধার জয়ে নায়ক কে? ইউসেফ এজ্জেজারি, রশিদ, বিপিনদের সঙ্গে ৯০ মিনিট কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ল আট হাজারের গ্যালারি। টিভি, মুঠোফোনের স্ক্রিনে আরও কয়েক লক্ষ। শীর্ষ লিগ এসেছে দু’দশকের বেশি আগে। একটা গোটা প্রজন্ম বড় হয়েছে বাইচুং, মুসা, ওকোরো আর আসিয়ান কাপের গল্প শুনে। সাফল্য কোথায়? কালেভদ্রে একটা ফেডারেশন কাপ। কখনো নিয়ম ভেঙে সুপার কাপ। কিন্তু শীর্ষ লিগ বা আইএসএল? ব্যর্থতাই চেনা ট্রেন্ড। তীরে এসে তরি ডোবার একঘেয়ে চিত্রনাট্য। বৃহস্পতিবার কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামেও সেরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ১৪ মিনিটে খেলার গতির বিরুদ্ধে ইন্টার কাশীর আলফ্রেড প্লানাসের দুরন্ত লক্ষ্যভেদে ছিল অশনি সংকেত। কিন্তু দলগত সংহতি এবং সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটানোর তীব্রতম আকাঙ্ক্ষা যে এই ইস্ট বেঙ্গলের সম্পদ। বিরতিতে কাশীর দল এগিয়ে থাকলেও খেতাবের আশায় বুক বেঁধেছে লাল-হলুদ জনতা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এজ্জেজারির গোল সমতা ফেরায়। আর ৭২ মিনিটে ডানদিক থেকে বিপিনের সেন্টারে পা ছুঁইয়ে রশিদের লক্ষ্যভেদ এঁকে দেয় বাঁধনছাড়া উল্লাসের চালচিত্র। ১৩ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট পেয়ে সবার উপরে ইস্ট বেঙ্গল। ক্লাব তাঁবুতে হাজির হাজার হাজার অনুরাগী জায়ান্ট স্ক্রিনে ম্যাচ দেখছিলেন। খেলা শেষের পর তাঁদের স্পর্ধা আকাশ ছুঁল। 
শেষ পর্যন্ত আতঙ্কের কাঁটাতার টপকাল ফুটবল। আনোয়ার, বিষ্ণু, মিগুয়েলের মনে এত আবেগ জমা ছিল কে জানত! মুহূর্তে কয়েকশো সমর্থকের ভিড় ঢেকে দিল ওদের। স্বপ্নপূরণের রাতে চোখের কোণ চিকচিকে। কেউ কাঁদছেন হাউহাউ করে। দু’হাতে মুখ ঢেকে। তবে চোখের জলেও আগুন আছে। ইস্ট বেঙ্গল কাঁপে না, কাঁপায়। চরম পেশাদার, ডাকাবুকো অস্কার ব্রুজোঁ অবাক চোখে চেয়েছিলেন গ্যালারির দিকে। মরগ্যান, আলেজান্দ্রো, কার্লেস কুয়াদ্রাত— কেউই পারেননি। তিনিই স্বপ্নের সওদাগর। প্রমাণ করলেন, ফিনিক্স পাখির মতো জ্বলে গিয়েও ছাই থেকে পুনর্জন্ম নিতে জানে ইস্ট বেঙ্গল। হারার আগে হারে না। এই জেদ, তাগিদ এতদিন তো অদৃশ্যই ছিল। লাল-হলুদ জার্সি পরে এসেছিলেন ক্লাব সভাপতি ও সচিব। আবেগে থরথরিয়ে কাঁপলেন। বাকিটা ইতিহাস। ম্যাচের পর অনেক রাতেও স্টেডিয়ামের বাইরে জনজোয়ার। নায়কদের একপলক দেখার জন্য প্রাণের আকুতি। জনবিস্ফোরণ সামলাতে গদলঘর্ম প্রশাসন। চোখ রাঙিয়ে লাভ নেই। এমন রাতের জন্য পিঠে লাঠির আঘাত খেতেও রাজি ওই জনতা। 
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ম্যাচ। আট হাজারি স্টেডিয়ামে টিকিটের হাহাকার তুঙ্গে। একটা টিকিট যেন হটকেক। টেনশনে রাতের ঘুম উধাও। কাকভোরে প্রিয় ক্লাবের মঙ্গল কামনায় মন্দিরে পুজো দিয়েছেন অনেকেই। হে ফুটবল দেবতা! এবার অন্তত মুখ তুলে চাও। বেলা গড়াতেই তিরতিরে টেনশন শুরু। লাল-হলুদ জার্সিতে বাইপাস ছয়লাপ। পরের পর বাইক, চারচাকার ঠিকানা কিশোর ভারতী স্টেডিয়াম। মাঠের আশেপাশের বহুতলের ছাদেও অগুনতি কালো মাথা। ইতিহাসের সাক্ষী হতে তর সইছে না যে। একাধিক গেটে লম্বা লাইন। পিলপিল করে লোক ঢুকছে মাঠে। রেফারি কিক-অফের বাঁশি বাজাতেই একটা গর্জন আকাশে উড়ল। তারপর? রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষা। একইসঙ্গে নজর দুটো ম্যাচে। যুবভারতীতে মোহন বাগান। প্রবল টেনশন। ভিআইপি গ্যালারিতে এক কর্তাকে বলতে শোনা গেল—‘হৃদযন্ত্র দুর্বল হলে ম্যাচ দেখা উচিত নয়। পকেটে সরবিট্রেট রাখা দরকার ছিল।’ প্রতিটা মিনিট যেন এক-একটা ঘণ্টা। তারপর? রেফারি আদিত্য পুরকায়েত শেষ বাঁশি বাজাতেই প্রতীক্ষার শেষ। উৎসবের শুরু।
     

সম্পর্কিত সংবাদ