সোমনাথ বসু, কলকাতা: বুধবার জর্ডনে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু’এর ম্যাচে দুরন্ত পারফরম্যান্স মেলে ধরেছে ইস্ট বেঙ্গল। আল হুসেইনের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে দু’গোলের লিড নেয় তারা। বিরতির পর বিপক্ষ তা শোধ দিলেও হাবাস-ব্রিগেডের লড়াই প্রশংসা আদায় করেছে বিশেষজ্ঞদের। মনে রাখতে হবে, ফিফা র্যাংকিংয়ে জর্ডন (৭৩) রয়েছে ভারতের (১৩৮) অনেকটাই আগে। তাছাড়া ইস্ট বেঙ্গল অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে গিয়েছে বিদেশি স্ট্রাইকার ছাড়াই। তা সত্ত্বেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রাখার সাহস দেখিয়েছেন রশিদ-আনোয়াররা।
গত মরশুমে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইস্ট বেঙ্গল। ঘরে তুলেছে ঐতিহ্যমণ্ডিত ডুরান্ড কাপও। ঘরের মাঠে কুয়েতের আল-আরবিকে হারিয়ে হাবাস-ব্রিগেড পৌঁছেছে এসিএল টু’তে। এই পর্বের প্রথম ম্যাচ যদি সূচক হয় তাহলে লাল-হলুদ সমর্থকরা অনেক দূরের স্বপ্ন দেখতেই পারেন। বুধবার ম্যাচ শেষে আম্মান ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ইস্ট বেঙ্গলের পাশাপাশি ভারতের জাতীয় পতাকাও উড়েছে পতপত করে। কিন্তু ধারাবাহিক সাফল্যের পথে হাঁটা মশাল বাহিনীর কাছে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। দল চালাতে এখন‘ নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ অবস্থা। স্থায়ী বিনিয়োগকারী না থাকায় আর্থিক দুরবস্থার মুখোমুখি কর্তারা। ফুটবলারদের বেতন দেওয়ার জন্য দিনরাত এক করে ফেলছেন তাঁরা। কিন্তু এভাবে চললে বেশি দূরের স্বপ্ন না দেখাই ভালো।
ইস্ট বেঙ্গল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করেছে। ইতিবাচক কথা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী, ক্রীড়ামন্ত্রী ও শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গেও। আশ্বাস মিললেও তা অবশ্য এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। তাই দেশের অন্যতম সফল ক্লাবকে আর্থিক সংকট থেকে কে বা কারা বাঁচাবেন, তার উত্তর সময়ের গর্ভেই। তবে সদস্য-সমর্থকরা আশাবাদী, রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় সমস্যার মেঘ দ্রুট কাটবে।
পরিসংখ্যান বলছে কোয়েস, শ্রী সিমেন্ট এবং ইমামি— এই তিনটি সংস্থা ইস্ট বেঙ্গলের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছিল। কিন্তু প্রতিবারই সেই চুক্তি স্বল্পমেয়াদি। ক্লাবের সার্বিক উন্নয়নের জন্য যা মোটেই কাম্য নয়। তাই লাল-হলুদ কর্তারা এমন একটি কর্পোরেট সংস্থাকে পাশে চাইছেন যারা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ভিত্তিতে এগিয়ে আসবেন।
আগামী ৩ অক্টোবর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত। সমর্থকদের আবেগের বিস্ফোরণ ঘটবে ভারতীয় ফুটবলের মক্কায়। এই ম্যাচ আয়োজনের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করবে ফেডারেশন। কিন্তু লাভের লাভ কী? ভারতীয় ফুটবল একফোঁটাও এগবে না। একাধিক বিশেষজ্ঞের মত, বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে জায়গা করে নেওয়ার জন্য ভারতকে এশিয়ান স্তর থেকে চিন্তাভাবনা করতে হবে। আর এখানই বিপত্তি। আর্থিক ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার অজুহাতে এশিয়ান গেমসে জাতীয় ফুটবল দল পাঠানো হয় না! সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ না থাকায় এবং আর্থিক দুরবস্থায় দেশের একাধিক ক্লাব (জেসিটি, মাহিন্দ্রা ইউনাইটেড, স্পোর্টিং ক্লুব দ্য গোয়া, ফ্রানজা, পুনে সিটি এফসি ইত্যাদি) বন্ধ হয়ে গেলেও তাদের পাশে দাঁড়ায়নি অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন। কর্তাদের জানা উচিত যে, ক্লাব ফুটবল সমৃদ্ধ না হলে জাতীয় দল শক্তিশালী হবে না। হাতে গরম উদাহরণ হিসাবে বিশ্বজয়ী স্পেনের দিকেই তো তাকাতে পারেন তাঁরা। রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, আতলেতিকো মাদ্রিদের মতো ক্লাবগুলিই স্প্যানিশ আর্মাডাকে সবার উপরে তুলে ধরেছে। তাই কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক ও ফেডারেশনের উচিত, আন্তর্জাতিক স্তরে গৌরব অর্জনকারী ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলিকে আর্থিকভাবে সুরক্ষিত রাখা। না হলে ফিফা র্যাংকিংয়ে পিছতে পিছতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।