আর্কাদাগ- ২ : ইস্ট বেঙ্গল- ১
(দু’লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে জিতল আর্কাদাগ)
আর্কাদাগ- ২ : ইস্ট বেঙ্গল- ১
(দু’লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে জিতল আর্কাদাগ)
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আইএসএলের সুপার সিক্সে উঠতে পারেনি ইস্ট বেঙ্গল। এবার এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ থেকেও খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে অস্কার ব্রুজোঁর দলকে। বুধবার টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি পর্বে তুর্কমেনিস্তানের ক্লাব আর্কাদাগের বিরুদ্ধে শুরুতে লিড নিয়েও তা ধরে রাখতে ব্যর্থ লাল-হলুদ ব্রিগেড। এদিন আরও একবার লাল কার্ড দেখে দলকে ডোবালেন লালচুংনুঙ্গা। দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জনে মরিয়া লড়াই চালালেও শেষরক্ষা হল না। শেষলগ্নে দু’গোল হজম করে হেরেই মাঠ ছাড়ল ইস্ট বেঙ্গল। দু’লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে জিতে পরের রাউন্ডে পৌঁছল আর্কাদাগ। উল্লেখ্য, প্রথম লেগে যুবভারতীতে ০-১ গোলে বশ মেনেছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। সেই ধাক্কা সামলে অ্যাওয়ে ম্যাচে শুরুটা ভালো করে আরও একবার হতাশায় ডুবলেন সাউল ক্রেসপো-মহেশ সিংরা।
গুরুত্বপূর্ণ অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে তুর্কমেনিস্তানে পা রাখার পর থেকেই একাধিক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয় ইস্ট বেঙ্গলকে। তা সত্ত্বেও নিজেদের সেরাটা মেলে ধরেন লাল-হলুদ ফুটবলাররা। ঘরের মাঠের একাদশ অপরিবর্তিত রেখেই বুধবার দল সাজিয়েছিলেন অস্কার। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই দলকে কাঙ্ক্ষিত লিড এনে দেন মেসি বৌলি। বক্সের বাঁ দিক থেকে দিয়ামানতাকোসের শট কোনওক্রমে রুখে দেন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক। তবে ফিরতি বল আলতো টোকায় জালে জড়াতে ভুল করেননি মেসি (১-০)।
অ্যাওয়ে ম্যাচে শুরুতেই লিড পাওয়ায় দু’লেগ মিলিয়ে স্কোর দাঁড়ায় ১-১। তবে এরপরই ইস্ট বেঙ্গল ফেরে ইস্ট বেঙ্গলে। একের পর এক সুযোগ নষ্টের প্রদর্শনীর পাশাপাশি ৩৩ মিনিটেই মধ্যেই জোড়া হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন লালচুংনুঙ্গা। উল্লেখ্য, চলতি মরশুমে একটি তাঁর চতুর্থ লাল কার্ড। দিনের পর দিন এভাবে দলকে ডোবানোর পরেও এই মিজো ডিফেন্ডারকে সামান্যটুকু শো-কজ করার দরকার প্রয়োজন বোধ করেন না কর্তারা। একজন কম নিয়েও লিড ধরে রাখার মরিয়া চেষ্টা চালায় ইস্ট বেঙ্গল। এমনকী, বড়লোকের বাউন্ডুলে ছেলের মতো রিচার্ড সেলিস একের পর এক সুযোগ নষ্ট না করলে দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়তে পারত। ঘরের মাঠে পিছিয়ে ম্যাচে ফেরার খুব একটা তাগিদ দেখা মেলেনি আর্কাদাগের খেলাতে। এরইমধ্যে ৮৭ মিনিটে বক্সের মধ্যে ফাউল করে প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি উপহার দেন শৌভিক। স্পটকিক থেকে জাল কাঁপাতে ভুল করেননি আলতমিরাত আন্নাদুর্দিয়েভ (১-১)। দু’লেগ মিলিয়ে আর্কাদাগের পক্ষে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-১। লিড হাতছাড়া হতেই টনক নড়ে অস্কারের। ডেভিড ও ক্লেটনকে মানিয়ে আপফ্রন্টে লোক বাড়ান। তবে তাতে কোনও লাভ হয়নি। বরং সংযোজিত সময়ের শেষমুহূর্তে ইস্ট বেঙ্গলের জাল কাঁপিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন শামামেত হায়দারোভ (২-১)।
ইস্ট বেঙ্গল: প্রভসুখন, রাকিপ (ডেভিড), জিকসন, হেক্টর, লালচুংনুঙ্গা, শৌভিক (ক্লেটন), মহেশ, সাউল, সেলিস (বিষ্ণু), মেসি বৌলি ও দিয়ামানতাকোস।