সোমনাথ বসু, কলকাতা: ভাদ্রের পচা গরম। তারই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উত্তপ্ত কলকাতা ময়দান। রবিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মর্যাদার ডার্বি। চ্যাম্পিয়ন হলেই মরশুমের প্রথম খেতাবের স্বাদ। তাই বিনা যুদ্ধে একে অপরকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ। তবে ইস্ট বেঙ্গল অনেক বেশি মরিয়া। এই ডুরান্ডের গ্রুপ পর্বের ডার্বিতে তারা হেরেছে। তাই বদলা নিতে তৈরি আন্তোনিও হাবাসের দল। পক্ষান্তরে, বিগ বাজেটের মোহন বাগানের পাখির চোখও সেনাবাহিনীর ট্রফিতে। নতুন কোচ পানাজিওটিস বুঝেছেন, এই ম্যাচ জিততে পারলে তাঁকে নিয়ে উৎসব শুরু হবে।
শুক্রবার বিকেল থেকেই শুরু হয়েছে টিকিটের আর্তি। দুই ক্লাবের সামনে অহরহ শোনা যাচ্ছে, ‘দাদা, একটা হবে নাকি?’ শনিবার সন্ধ্যায় সেই চাহিদা সুনামি হয়ে আছড়ে পড়ল। মন্দিরতলা, ভবানীপুর, বাগুইআটি সবুজ-মেরুন পতাকায় ছয়লাপ। একফোঁটাও পিছিয়ে নেই যাদবপুর, বেলেঘাটা। বুকে আবেগের বারুদ নিয়ে লাল-হলুদ মশাল জ্বালার প্রতীক্ষায় সমর্থকরা। বাজারে ইলিশ-চিংড়ির উপর ঝুলছে হাজার ওয়াটের আলো। মাসের শেষ হলেও সকাল-সকাল খদ্দের যে আসবেই। আর ম্যাচ শেষে জয়ী দলের অনুরাগীরা উপচে পড়বেই, আশাবাদী মানিকতলা-লেক মার্কেটের মৎস্য ব্যবসায়ীরা।
মরশুম সবে শুরু হয়েছে। তাই দুই দলেই ফিটনেসের অভাব স্পষ্ট। তবে মোহন বাগান প্রায় একই দল ধরে রাখায় বোঝাপড়ার নিরিখে এগিয়ে। মিগুয়েল ও ছাংতে এবারই যোগ দেওয়ায় ম্যাকলারেনের সঙ্গে তাঁদের তালমিল এখনও কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছায়নি। ইস্ট বেঙ্গলে যোগ্য স্ট্রাইকারের অভাব। ডেভিড-জেসিনরা অনভিজ্ঞ। রশিদ ও ড্যানি রামিরেজের উপর ভরসা রাখছেন কোচ হাবাস। রক্ষণ সামলানোর জন্য রয়েছেন আনোয়ার। সন্দীপ মান্ডি-নুঙ্গাদেরও তাঁর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে হবে। মোহন বাগানের আসল শক্তি উইং প্লে। লিস্টন-মনবীরদের দৌড়ের জায়গা দিলেই বিপদ। গত ডার্বিতে গোল পেয়ে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে সাহালেরও। তাই হাবাসের লক্ষ্য, রক্ষণ ও মাঝমাঠ সংগঠিত রেখে আক্রমণে ওঠা। প্রথম ডার্বি হারের পর স্প্যানিশ কোচ অনেক সতর্ক।
সেমি-ফাইনালে এসসি দিল্লিকে টাই-ব্রেকারে হারিয়েছে ইস্ট বেঙ্গল। সৌজন্যে গোলরক্ষক প্রভসুখন গিল। আর মোহন বাগান ফাইনালে পৌঁছেছে টানা দু’টি ম্যাচ পেনাল্টি শ্যুট-আউটে জিতে। জামশেদপুর ও নর্থইস্টকে বশ মানানোর কারিগর গোলরক্ষক কাইথের বিশাল হাত। তিনি দলের সেরা ভরসা। ফাইনালের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করবে এই দু’জনের পারফরম্যান্সের উপর।
বৃহস্পতিবার শিলংয়ে ম্যাচ খেলে শুক্রবার শহরে ফিরেছে পানোসের দল। বৃষ্টিভেজা ভারী মাঠে ৯০ মিনিট খেলা মুখের কথা নয়। তাই ক্লান্তিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়াই সবুজ-মেরুনের চ্যালেঞ্জ। এই জায়গায় ইস্ট বেঙ্গল অনেকটাই এগিয়ে। ফাইনালের আগে তিনদিন সময় পেয়েছে তারা। শনিবার কোচ হাবাস বিশ্রাম দিয়েছিলেন ফুটবলারদের। অভিজ্ঞ কোচ জানেন, বিপক্ষকে চাপে ফেলতে প্রয়োজন প্রেসিং ফুটবলের। রবিবার যুবভারতীতে সেই পরিকল্পনাই রূপায়িত করার দায়িত্ব থাকবে জিকসনদের উপর। মোহন বাগান কোচ পানোস আবার ফুটবলারদের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশে সেরাটা বের করে নিতে চাইছেন।
শেষ হাসি কে হাসবে? ডার্বির ফল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা উচিত নয়। তাই অপেক্ষা আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার।