ইস্ট বেঙ্গল- ৩ : ডায়মন্ডহারবার- ১
(ডেভিড,জেসিন-২) (কিমা)
ইস্ট বেঙ্গল- ৩ : ডায়মন্ডহারবার- ১
(ডেভিড,জেসিন-২) (কিমা)
সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠে বাঁধনছাড়া উল্লাসে শামিল লাল-হলুদ ফুটবলাররা। তবে সেই উচ্ছ্বাসে গা ভাসাননি কোচ বিনো জর্জ। ম্যাচ শেষ হতেই ড্রেসিং-রুমের পথে হাঁটা দেন কেরালাইট কোচ। সুপার সিক্সে পরপর দু’ম্যাচ জিতে খেতাবের আরও কাছে ইস্ট বেঙ্গল। তবে কাপ ও ঠোঁটের মধ্যে দূরত্বটা যে এখনও রয়েই গিয়েছে। আর তা ভালোই জানেন লাল-হলুদ কোচ। তাই যাবতীয় উচ্ছ্বাস দূরে সরিয়ে এখন তাঁর ভাবনায় শুধুই ইউনাইটেড ম্যাচ। রবিবার কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে ডায়মন্ডহারবার এফসি’কে ৩-১ গোলে বশ মানাল ইস্ট বেঙ্গল। সেই সঙ্গে ডুরান্ড কাপে হারের মধুর প্রতিশোধ নিলেন সায়নরা। জোড়া গোলে জয়ের নায়ক জেসিন টিকে। এছাড়া স্কোরশিটে নাম তোলেন ডেভিড। ডায়মন্ডহারবারের একমাত্র গোলটি কিমার। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ক্লাবের মাঠে ইউনাইটেড স্পোর্টসের মুখোমুখি হবে ইস্ট বেঙ্গল।
ডায়মন্ডহারবারের ম্যাচকেই লিগের অঘোষিত ফাইনাল হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই মতো পূর্ণশক্তির দল মাঠে নামান লাল-হলুদ কোচ। বৃষ্টিস্নাত কিশোর ভারতীতে শুরু থেকেই দু’দলকে কিছুটা ছন্নছাড়া দেখায়। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ডায়মন্ডহারবারের রুহুল পুরকায়েত। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে উইং থেকে একের পর এক আক্রমণ তুলে আনেন সায়ন-আমনরা। প্রাথমিক জড়তা কাটিয়ে ২৬ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত লিড নেয় ইস্ট বেঙ্গল। প্রতিপক্ষ বক্সের মধ্যে বিষ্ণুর পাস থেকে জাল কাঁপান ডেভিড (১-০)। এরপর প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করেন সায়ন।
বিরতির পরও ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে রাখে ইস্ট বেঙ্গল। তবে ৭১ মিনিটে গতির বিপরীতে গোল হজম করে তারা। এক্ষেত্রে দায় এড়াতে পারেন না গোলরক্ষক দেবজিৎ। ফ্রি-কিক থেকে পলের ভাসানো সেন্টার গোল ছেড়ে বেড়িয়ে এসে ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ লাল-হলুদ দুর্গপ্রহরী। তা থেকে হেডে ডায়মন্ডহারবারকে লড়াইয়ে ফেরান কিমা (১-১)। বলাই বাহুল্য, দেবজিতের গায়ে এখন আর বড় দলের জার্সি মানায় না। গোল হজমের তিন মিনিটের মধ্যেই ফের লিড নেয় ইস্ট বেঙ্গল। ডানপ্রাপ্ত থেকে গতি বাড়িয়ে আক্রমণে ওঠেন সায়ন। তারপর ভিতরে ঢুকেই গোলে শট নেন তিনি। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক রুখলেও ফিরতি বল জালে জড়ান জেসিন (২-১)। আর ম্যাচের সংযোজিত সময়ে প্রতি-আক্রমণ থেকে জয়ের জয় নিশ্চিত করেন এই কেরালাইট উইঙ্গার (৩-১)।
ইস্ট বেঙ্গল: দেবজিৎ, জোসেফ, চাকু, প্রভাত, বিক্রম, তন্ময়, সায়ন (শ্যামল), নাসিব, আমন (গুইতে), বিষ্ণু (এডমুন্ড) ও ডেভিড (জেসিন)।