সংবাদদাতা, করিমপুর: একসময় দুর্গাপুজোর আগে নতুন ঢাক তৈরি, পুরনো ঢাক সারাই কিংবা দূর রাজ্যে পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকতেন গ্রামের ঢাকিরা। কিন্তু নতুন প্রজন্মের এই পেশায় অনীহা এবং প্রবীণ ঢাকিদের বয়সের ভারে বদলে গিয়েছে সেই চেনা ছবি। দুর্গাপুজো আসন্ন, অথচ ‘ঢাকিদের গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত মুরুটিয়ার বারুইপাড়া দাসপাড়ায় নেই পুরনো সেই ব্যস্ততা। কয়েক বছর আগেও মুরুটিয়ার বারুইপাড়া দাসপাড়ার প্রায় ৩০টি পরিবারের ৭০ জনের মতো ঢাকি দুর্গাপুজোর মরশুমে কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাড়ি দিতেন। পুজোর প্রায় পাঁচদিন আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়তেন তাঁরা। টানা পাঁচ দিন মণ্ডপে ঢাক বাজানোর পর লক্ষ্মীপুজোর দিন বাড়ি ফেরা। যাতায়াতের পাশাপাশি তাঁদের থাকা ও খাওয়ার খরচও বহন করতেন পুজোর উদ্যোক্তারা। ফলে দুর্গাপুজোর মরশুমে ভালো রোজগার হতো ঢাকিদের। গ্রামের ঢাকি সমর দাস বলেন, বহু বছর ধরে গ্রামের পুরুষদের প্রধান পেশাই ছিল ঢাক বাজানো। সারা বছর বিভিন্ন পুজো-পার্বণে ঢাক বাজাতাম। দুর্গাপুজোর সময় বেশি রোজগারের আশায় দিল্লি, মুম্বই সহ বিভিন্ন জায়গায় যেতাম। পুজোর প্রায় এক মাস আগে থেকেই উদ্যোক্তারা বায়না করে রাখতেন। শুধু দুর্গাপুজো নয়, বছরের অন্যান্য সময়েও এই গ্রামের ঢাকিদের ডাক পড়ত বিভিন্ন জায়গা থেকে। গ্রামের প্রবীণ ঢাকি সন্তোষ দাস ১৯৮৬ সাল থেকে নিয়মিত দিল্লির একটি পুজোমণ্ডপে ঢাক বাজাতে যেতেন। তিনি জানান, একসময় গ্রামের প্রায় সবাই দুর্গাপুজোয় বাড়তি রোজগারের জন্য বাইরে যেতেন। বছর দশেক আগেও বাইরে গিয়ে ঢাক বাজিয়ে অনেক বেশি টাকা পাওয়া যেত। কিন্তু করোনার সময় থেকে বাইরে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে গ্রামের যে কয়েকজন এখনও এই পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই করিমপুর ও আশপাশের এলাকার পুজোতেই ডাক পাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাছাকাছি এলাকায় দুর্গাপুজোয় ঢাক বাজিয়ে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন তাঁরা। ফলে দূরের শহর বা অন্য রাজ্যে গিয়ে কয়েকদিন থাকার তুলনায় অনেকেই বাড়ির কাছাকাছি পুজোয় বাজানোতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন। সমর দাসের স্ত্রী চন্দনা দাস বলেন, আগে পুজোর সময় গ্রামের প্রায় সব পুরুষই বাইরে চলে যেতেন। সবাই যখন পুজোর আনন্দ করত তখন আমাদের স্বামী-ছেলেকে ছেড়ে বাড়িতে থাকতে হতো। এখন বাড়ির কাছেই ঢাক বাজিয়ে প্রায় ১৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। তাই পুজোর দিনগুলিতে আর পুরুষশূন্য হয়ে থাকে না গ্রাম। পরিবারের



