নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আদালতের সমন বিলির ক্ষেত্রে পুলিশ ও অভিযুক্তের মধ্যে আঁতাঁত এবার শেষ হতে হতে চলেছে রাজ্যে। অভিযোগ, সমন বিলির ক্ষেত্রে কিছু অভিযুক্তকে সুবিধা পাইয়ে দিয়ে পুলিশ কর্মীদের একাংশ এতদিন ঘুষ নিতেন। আদালতে জমা পড়া রিপোর্টে বলা হত যে, ডাকযোগে সমন দেরিতে পৌঁছানোয় নির্দিষ্ট দিতে হাজিরা দিতে পারেনি অভিযুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই প্রথা বন্ধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার ই-সমন চালু করে। অন্য রাজ্য এই প্রোজেক্টে জুড়লেও তৃণমূল আমলে পশ্চিমবঙ্গে এই ব্যবস্থা চালু হয়নি। পালাবদলের পর ই-সমন চালু হচ্ছে রাজ্যে।
রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, এতদিন ডাকযোগে সমন পাঠাত আদালত। অভিযুক্ত, অভিযোগকারী বা সাক্ষীর কাছে তা পৌঁছায়। ডাক বিভাগের বিভিন্ন সমস্যার কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমন যথাসময়ে পৌঁছাত না। আবার নির্দিষ্ট সময়ে এলেও কিছু পুলিশ কর্মী তা বিলি করতে যেতেন না বলে অভিযোগ। অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্ত বা কাউকে সুবিধা পাইয়ে দিতে আদালতকে রিপোর্ট দেওয়া হত এই বয়ানে যে, সমন হাতে দেওয়ার জন্য উদ্দিষ্ট অভিযুক্ত বা সাক্ষীকে পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁর এলাকায় দিব্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন! এর বিনিময়ে অবশ্য কোনো অসাধু পুলিশ কর্মীকে মোটা টাকা দিতে হত বলেই অভিযোগ। ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ না থাকায় বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হত না। এই সমস্ত সমস্যা দূর করতেই চালু হয় ই-সমন।
রাজ্যে এবার এই প্রকল্প চালু হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় আদালত থেকে সোজাসুজি সমন চলে আসবে থানার মেল আইডিতে। এরপর তা অভিযোগকারী, অভিযুক্ত বা সাক্ষীর মেল আইডিতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। মেল যে রিসিভ করা হয়েছে তার প্রমাণস্বরূপ ডিজিটাল সই করে প্রাপক পাঠিয়ে দেবেন। একইসঙ্গে সমন প্রাপকের কাছে যাবেন পুলিশ কর্মীরা। সমনগ্রহণের ভিডিয়োগ্রাফিও করা হবে। আর কাউকে নিতান্তই না-পাওয়া গেলে তারও ভিডিয়োগ্রাফি করবেন পুলিশ কর্মীরা। তারপর সেটি আপলোড করা হবে নির্দিষ্ট পোর্টালে। ই-সমনের মাধ্যমে নথি হারানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। একইসঙ্গে জিও ট্যাগিং থাকায় লোকেশন ট্র্যাক করে এর অবস্থান জানা যাবে। নয়া ব্যবস্থায় সমন পৌঁছানোর প্রমাণ থাকায় সেটি পাঠাতে বিলম্বের ব্যাপারে পুলিশ কর্মীকে জবাবদিহি করতে হবে।