সংবাদদাতা, মানকর: আউশগ্রামের দ্বারিয়াপুরের ডোকরা শিল্পের খ্যাতি শুধু এরাজ্যেই নয়, দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু একসময় দুর্গাপুজোর আগে হাতের বালা, লকেট সহ বিভিন্ন গয়নার অর্ডার আসত। এবছরে তা প্রায় আসেনি বললেই চলে। ফলে শিল্পীপাড়া এবার কিছুটা হতাশ।
জানা গিয়েছে, দ্বারিয়াপুরে ৬০টিরও বেশি পরিবার এই শিল্পের উপর জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ছত্তিশগড়ের বস্তার থেকে ডোকরা শিল্পীরা পশ্চিমবঙ্গে আসেন। তাঁদের একটি অংশ বাঁকুড়ায় এবং অন্যরা দ্বারিয়াপুরে বসবাস শুরু করেন। শিল্পী মনসা কর্মকার বলেন, বাক্স, ফুলদানি থেকে শুরু করে বিভিন্ন মূর্তি, পালকি টুকটাক বিক্রি হচ্ছে। দাম কম হওয়ায় লকেটও বিক্রি হয়। কিন্তু দুর্গাপুজোর আগে যে পরিমাণ বিক্রি হতো, তা নেই। শিল্পী শিবশঙ্কর কর্মকার বলেন, পরিবার সূত্রেই আমরা ডোকরা শিল্প শিখেছি। এখানে শিল্পের বিশেষত্ব হল, আমাদের কাছে কোনও ছাঁচ তৈরি থাকে না। তাই একটি জিনিস একবারই তৈরি হয়।
তাঁরা জানান, একসময় পুজোর আগে প্রচুর পরিমাণে গয়না সামগ্রীর অর্ডার আসত। পুজোর আগের ক’দিন নাওয়া-খাওয়ার সময় পাওয়া যেত না। সংসারে দু’পয়সা আয় হতো। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। করোনার পর থেকেই ব্যবসা নিম্নগামী। শিল্পী শুভ কর্মকার বলেন, ২০১৯ সালে পুজোর আগে আমি পাঁচ হাজার পিস লকেট তৈরির অর্ডার পেয়েছিলাম। ২০১৭ সাল থেকে ব্যবসার গতি উর্ধ্বমুখী ছিল। কিন্তু করোনার পরে সব বদলে গিয়েছে। এখন আর গয়নার অর্ডার সেইভাবে আসে না বললেই চলে। তবে পুজোর সময় বিক্রি কিছুটা বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী। শিল্পী রামশঙ্কর কর্মকার বলেন, যেসব পর্যটক ভাল্কি মাচান, লবণধার, বোলপুর-শান্তিনিকেতনে যান, তাঁদের অধিকাংশই এখানে আসেন। অনেকে কেনাকাটাও করেন। দ্বারিয়াপুরের ডোকরা শিল্পীরা জানান, ছোট লকেটের দাম ৫০টাকা থেকে শুরু। হার ও অন্যান্য গয়না সামগ্রীর দাম ৫০০টাকার মধ্যেই। তবে পালকি বা অন্যান্য মূর্তি আড়াই হাজার টাকা থেকে শুরু। একটি রথ বা মূর্তি তৈরি করতে ১০-১২দিন সময় লেগে যায়। রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী রামু কর্মকার বলেন, এখানে বড় মূর্তিও তৈরি করা হয়। এখানে তৈরি হওয়া ১০ফুটের দুর্গা প্রতিমা কলকাতার মণ্ডপেও জায়গা করে নিয়েছে। তবে বর্তমানে শিল্পের খরচ বেড়েছে। প্রধান উপকরণ পিতল ছাড়াও কয়লা, মোম ও অন্যান্য কাঁচামালের দাম এখন অনেকটাই বেশি। রামু আরও বলেন, ক্রেতারা এসে মডেলের উপর গোল্ডেন পালিশ চাইছেন। কিন্তু ডোকরা শিল্পে পালিশের বিষয় আগে ছিল না। প্রশিক্ষণ থাকলে শিল্পীরা সেই চাহিদা পূরণ করতে পারতেন। পালিশ নিয়ে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন।