নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডজুড়ে চলছে প্রবল বর্ষণ। তার জেরেই এক রাতের মধ্যেই মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধারের জলস্তর বাড়লো ৫ ফুট। অতিরিক্ত জলের চাপ সামলাতে বিপুল পরিমাণ জল ছাড়া হচ্ছে দু’টি জলাধার থেকেই। একেই নাগাড়ে বৃষ্টি। তার উপর ডিভিসির বাঁধের বিপুল জল। ফুলেফেঁপে উঠেছে দামোদর নদ। জানা গিয়েছে, দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে দুপুর দু’টো থেকে ১ লক্ষ ১০ হাজার ৪০০ কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে। আরও জল ছাড়ার সম্ভাবনা থাকছে। স্বাভাবিক কারণেই বন্যার ভ্রুকুটি নিম্ন দামোদর অববাহিকায়। যার মধ্যে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে আরামবাগ, গোঘাট সহ হাওড়ার আমতা, উদয়নারায়ণপুরে।
ডিভিসি সূত্রে খবর, সোমবারও মাইথনের জলস্তর ছিল ৪৭৯ ফুট। মঙ্গলবার সকালে সেই জলস্তর হয়ে যায় ৪৮৬ ফুট। ৪৮০ ফুটের উপর জল উঠলেই তা ‘ফ্লাড জোন’ হিসাবে ধরা হয়। তাই মাইথন বাঁধের গেট খুলে ৫৫ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হয় দুপুর দেড়টার সময়। একইভাবে পাঞ্চেতে সোমবার জলস্তর ছিল ৪০৬ ফুট। সেটা বেড়ে হয়েছে ৪১৪ ফুট। বিপুল জলের চাপ সামলাতে পাঞ্চেত থেকে ৬৫ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া শুরু হয়। অর্থাৎ, দুপুর দেড়টা থেকে দু’টি জলাধার থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার কিউসেক হারে জল ছেড়েছে ডিভিসি। জানা গিয়েছে, বরাকর অববাহিকাজুড়ে একদিনে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৫০ মিলিমিটার। দামোদর অববাহিকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩৯ মিলিমিটার। শুধু মাইথনেই বৃষ্টিপাত হয়েছে ১০১ মিলিমিটার। এই বিপুল বৃষ্টিপাতের জেরেই এমন পরিস্থিতি। ডিভিসির মাইথন,পাঞ্চেত প্রকল্পের শীর্ষকর্তা সুবীর সাহা বলেন, ‘দামোদর ভ্যালি জলাধার নিয়ন্ত্রণ কমিটি (ডিভিআরসিসি) সবদিক বিবেচনা করে জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মাইথন বাঁধে ১২ হাজার কিউসেক হারে এই সময়ে জল ঢোকে। শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৮৩ হাজার কিউসেক হারে জল ঢুকেছে। পাঞ্চেতে ৩৬ হাজার কিউসেক হারে জল ঢোকে। এখন ঢুকছে ৯৩ হাজার কিউসেক হারে। তাই এমন পরিস্থিতি।’ দুর্গাপুর ব্যারাজের অবস্থা আরও জটিল। মাইথন ও পাঞ্চেত বাঁধে থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি দূরে দুর্গাপুর ব্যারাজ। মাঝের দামোদরের এই অংশেও প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে স্থানীয় নদীগুলি থেকে বিপুল জল এসে দামোদরে মিশছে। শুধু মাত্র আসানসোলে ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বার্নপুরে বৃষ্টি হয়েছে ২২৭ মিলিমিটার। এরফলে যখন মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে যখন ৭০ হাজার কিউসেক হাতে জল ছাড়া হচ্ছিল তখনই দামোদর ব্যারাজ থেকে ১ লক্ষ ১১ হাজার ৪০০ কিউসেক হারে জল ছাড়তে হয়। দুপুর দেড়টার পর ডিভিসির বাঁধগুলি থেকে প্রায় এক লক্ষ কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে। সেই জল আসতে ৬ থেকে আট ঘণ্টা সময় লাগে। তাই দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়বেই।