Bartaman Logo
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জল ছাড়ার পরিমাণ কমাল ডিভিসি, দ্রুত বাড়ছে জলস্তর, আজ, বাঁকুড়া-হাওড়া-হুগলির নীচু এলাকায় প্লাবন আশঙ্কা

বৃষ্টির পরিমাণ কমে এলেও, ডিভিসি’র ছাড়া জলে দক্ষিণবঙ্গের নতুন নতুন অংশ প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

জল ছাড়ার পরিমাণ কমাল ডিভিসি, দ্রুত বাড়ছে জলস্তর, আজ, বাঁকুড়া-হাওড়া-হুগলির নীচু এলাকায় প্লাবন আশঙ্কা
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বৃষ্টির পরিমাণ কমে এলেও, ডিভিসি’র ছাড়া জলে দক্ষিণবঙ্গের নতুন নতুন অংশ প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এই আবর্তে আজ, শুক্রবার ভোরে ডিভিসি’র ছাড়া জল দক্ষিণবঙ্গের বাঁকুড়া, হাওড়া, হুগলির মতো জেলার নীচু অংশকে প্লাবিত করবে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে যাবতীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আমতা, উদয়নারায়ণপুর, আরামবাগ, খানাকুল, গোঘাট, সোনামুখীর নদী তীরবর্তী অংশের বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই হুগলির খানাকুল­ সহ দুটি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে অ্যান্টি ভেনাম সিরাম মজুত রাখা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে এসডিআরএফ এবং এনডিআরএফ জওয়ানদের। কোপাই নদীর জলে প্লাবিত হয়েছে সতীপীঠ কঙ্কালিতলা মন্দির। জলমগ্ন বোলপুর পুরসভা এবং লাগোয়া গ্রামীণ এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ। নাগাড়ে বৃষ্টিতে ফুলেফেঁপে ওঠা হিংলা নদীর পাড়ে থাকা দুবরাজপুরের লোবা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ অংশ ভাঙনের কবলে পড়েছে। এই পঞ্চায়েতের পলাশডাঙা ও দেবীপুর চর এলাকার ১৮টি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। বিপর্যস্ত বাসিন্দাদের স্থানীয় জোপলাই হাইস্কুলের অস্থায়ী শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাওড়া-হুগলি জেলার ৩৬০ জন বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে। 

Advertisement

এই আবহে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ কমিয়েছে ডিভিসি কর্তৃপক্ষ। ডিভিসি’র চেয়ারম্যান রাজেশ পাণ্ডে জানিয়েছেন, এখন ৯৮ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। প্রবল বৃষ্টির আগে তিন-চারদিন ধরে ডিভিসি’র জলাধার থেকে নিয়ন্ত্রিতভাবে জল ছাড়া হচ্ছিল। না হলে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তাতে চার লক্ষ কিউসেক পরিমাণ জল ছাড়তে হত। এবার সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ২৫ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ফরাক্কা জলাধার থেকেও নিয়ন্ত্রিতভাবে জল ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নতুন করে ভারী বৃষ্টি না হলে, বড়োসড়ো বিপত্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। এদিন রাজ্যের তরফে ডিভিসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। 
নাগাড়ে বৃষ্টি জেরে মাটি নরম হয়ে বুধবার গভীর রাতে নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে রেললাইনে ধস নামে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি সামনে আসার পর পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ ট্রেন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনে। বাতিল করা হয় উত্তরবঙ্গমুখী দার্জিলিং মেল, কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসের মতো চারটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন। ঘুরপথে চালানো হয় বেশ কয়েকটি ট্রেন। আজ, শুক্রবার বাতিল করা হয়েছে হাওড়া ও জলপাইগুড়ির ম঩ধ্যে চলাচলকারী আপ ও ডাউন বন্দেভারত এক্সপ্রেস।     

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ