Bartaman Logo
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্যোগ কাটলেও জল ছাড়ছে ডিভিসি

বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমান জেলায় নতুন করে বৃষ্টিপাত হয়নি। বৃষ্টি হয়নি ঝাড়খণ্ডেও

দুর্যোগ কাটলেও জল ছাড়ছে ডিভিসি
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমান জেলায় নতুন করে বৃষ্টিপাত হয়নি। বৃষ্টি হয়নি ঝাড়খণ্ডেও। আবহাওয়ার উন্নতি হলেও জল ছাড়া অব্যাহত ডিভিসির দুটি বাঁধ থেকে। রাজ্যে সরকার বদল হলেও মাইথন ও পাঞ্চেতের জল ছাড়ার ইতিহাস একই থাকল। এদিন সকাল থেকে এক লক্ষ ৮ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছিল পাঞ্চেত ও মাইথন জলাধার থেকে। জারি রাখা হয়েছিল কমলা সতর্কতাও। নিম্ন দামোদরের বিভিন্ন এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করায় চাপ বাড়ে ডিভিসির উপর। দুপুর থেকে ৯৮ হাজার কিউসেক হারে জল ছেড়ে কমলার বদলে হলুদ সতর্কতা জারি করে ডিভিসি। 

Advertisement

যদিও তাতে দুর্গাপুর ব্যারেজে জল ছাড়া কমার সম্ভবনা ছিল না। রাতভর মাইথন ও পাঞ্চেতের বিপুল জল এবং অন্যান্য নদীর জল দুর্গাপুর ব্যারেজে জমা হওয়ার জেরে দফায় দফায় জল ছাড়া বাড়িয়েছে দুর্গাপুর ব্যারেজের দায়িত্বে থাকা সেচদপ্তর। সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭৫ কিউসেক হারে দুপুর দুটোর থেকে জল ছাড়তে হয়েছিল দুর্গাপুর ব্যারেজে। এছাড়া উপায়ও ছিল না। কারণ দুর্গাপুর ব্যারেজে অতিরিক্ত জল জমে যাওয়ার জন্য দুর্গাপুর শহরের বেশ কিছু এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। যদিও অভিযোগ ওঠে, সেচদপ্তর ও ডিভিসির জমি দখল করেই অবৈধ নির্মাণ হয়েছে নদী ঘেঁসে। 
কিন্তু বৃষ্টি কমলেও কেন জল ছাড়তে হচ্ছে ডিভিসিকে? এই বিষয়ে মাইথনের ডিভিসির প্রজেক্ট হেড সুবীর সাহা বলেন, বৃষ্টি বন্ধ হলেও আগের বৃষ্টির জন্য বিপুল পরিমাণ জল মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধারে ঢুকছে। এছাড়া ঝাড়খণ্ড সরকার তেনুঘাট থেকেও জল ছাড়ছে। তা‌‌ই বাঁধের জলস্তর নামাতে আমাদের জল ছাড়তে হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, বৃহস্পতি সন্ধ্যা ছ’টা থেকে মা‌ইথন থেকে ৪০ হাজার কিউসেক হারে ও পাঞ্চেত থেকে ৫৮ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে। একই ভাবে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে সন্ধ্যা ছ’টার সময়ে জল ছাড়া হচ্ছে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৭৭৫ কিউসেক হারে। যদিও সেচদপ্তরের দাবি নতুন করে কোথাও বৃষ্টিপাত হয়নি। ডিভিসির বাঁধগুলি থেকেও ধীরে ধীরে জল ছাড়া কমানো হচ্ছে। তাই দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকেও জল ছাড়ার পরিমাণ দফায় দফায় কমানো হবে। অতি বৃষ্টির জন্য আসানসোলের বিস্তীর্ণ অংশে বাড়িতে জল ঢুকে দুর্গাপুরের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ার কারণ হিসাবে নদী দখল করে অবৈধ নির্মাণকেই দায়ী করেছেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, আমাদের সরকার মনগড়া কথা বলবে না যে, ডিভিসি ম্যান মেড বন্যা করাচ্ছে। নদীর পাড় দখল করে নদী দখল করে অবৈধ নির্মাণ হয়েছে। নদী জলবহন করতে পারছে না। আগের সরকার এই অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ করেনি। তাই এই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমরা অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে গেলে বিরোধীরা বাধা দিচ্ছে। যদিও জেলাবাসীর দাবি, নদী তীরবর্তী যেসব রির্সটগুলি নিয়ে এতদিন সরব ছিল বিজেপি নেতারা, সেগুলি এখন তাঁদের মদতে চালু হয়েছে। তাই পুরমন্ত্রী চাইলেই তা ভাঙতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান।  নিজস্ব চিত্র  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ