তৃণমূল আমলে বালি কারবারে নকল চালান তৈরি করে টাকা লুট, তদন্ত শুরু করতে চলেছে বর্ধমান জেলা প্রশাসন
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: শুধু পাথর ব্যবসায় নয়, বালির কারবারেও ব্যবহার করা হয়েছিল ভুয়ো  চালান। তৃণমূল জমানায় বালি কারবারেও সরকারের বহু টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। নকল চালান করে মাফিয়া এবং এক শ্রেণির ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের কর্মীরা ফুলেফেঁপে উঠেছিলেন। পাথরের পর বালির অবৈধ চালান নিয়েও প্রশাসন তদন্তে নামছে। এই চক্রের মাস্টার মাইন্ডদের মাথার উপরও সেই সময় প্রভাবশালীদের হাত ছিল। সেই কারণে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হয়নি। ভোটের কয়েকমাস আগে চক্রের একজনকে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু সে পরের দিনই জামিন পেয়ে যায়।

Advertisement

কীভাবে চলত এই কারবার? প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই সময় বালি মাফিয়ারা জামতাড়ার কয়েকজন সাইবার অপরাধীকে কাজে লাগায়। তাদের দিয়ে সরকারি পোর্টাল হ্যাক করানো হয়। তারপরই আসলের মতো হুবহু নকল চালান তৈরি করে বালি পাচার করা হয়। এই চক্রে উঠে আগে গলসির এক বালি ব্যবসায়ীর নাম। কিন্তু সেই সময় তাঁর মাথার উপর তৃণমূল নেতাদের হাত থাকায় তদন্ত বেশি দূর এগয়নি। নকল চালান তৈরি করে জেলাজুড়ে সেই সময় বালির অবৈধ কারবার চলত। সরকারের খাতে রাজস্ব জমা না পড়লেও তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা ছিল না।
বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, সেই সময় ‘বিশ্ববাংলার’ লোগো ব্যবহার করেও বালি পাচার চলত। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের এক শ্রেণির আধিকারিকদের মদতেই মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বেড়েছিল। ওই আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা দরকার। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক অবশ্য বলছেন, সেই সময় মাফিয়াদের বাধা দেওয়ার সাহস কারও ছিল না। তিন বছর আগে পূর্বস্থলী এলাকায় একটি বালির গাড়ি আটকানো হয়। সেই সময় মাফিয়াদের লোকজন এলোপাথাড়ি গুলি করে। কোনো রকমে আধিকারিকরা রক্ষা পান। সেই সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বিস্তর প্রশ্ন ছিল। জেলায় অবৈধ বালির ঘাটের রমরমাও ব্যাপক ছিল। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই সময় নকল চালান তৈরির মাথাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলেও ফাইল তৈরি হয়েছিল। সেই ফাইল আবার নতুন করে খোলার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আধিকারিকরা ভুয়ো চালানের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে গলসির একটি অফিস থেকে বেশ কিছু নথি উদ্ধার করেছিল। সেগুলিকেও কাজে লাগানো হবে। বীরভূমের টুলুর মতো জেলার কয়েকজন মাফিয়া আধিকারিকদের নজরে রয়েছে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, কোনো মাফিয়ার সঙ্গে দলের সম্পর্ক ছিল না। ব্যক্তিগত স্বার্থে কেউ কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারে। কিন্তু দল কখনওই সেসব সমর্থন করেনি। প্রশাসনের কাছে নিশ্চয় সব রেকর্ড রয়েছে। প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিক।-নিজস্ব চিত্র