সুজয় সরকার, হিলি: বালুরঘাট শহরের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন কালীপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম বুড়াকালী মায়ের পুজো। পরম্পরা ও নিয়মনিষ্ঠা এখানকার পুজোর মূল আকর্ষণ। রীতি মেনে এবারও জোর কদমে শেষ মুহূর্তের পুজো প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সময়ের সঙ্গে মন্দিরের চেহারায় বদল এসেছে। কিন্তু বদলায়নি পুরনো প্রথা। দীপান্বিতা অমাবস্যায় দেবীর বিশেষ পুজোকে ঘিরে প্রতি বছর মন্দিরে ভক্ত ও পূণ্যার্থীদের ঢল নামে। পুজোকে সামনে রেখে মন্দির সাজানোর কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। মন্দির রং করার কাজ সহ চলছে মন্দির চত্বরকে আলোকিত করার কাজ।
ঐতিহ্য প্রাচীন বুড়াকালী মায়ের পুজোর সূচনা ঠিক কবে শুরু হয়েছিল সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য ও সন-তারিখ জানা যায় না। পুজোকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে। একাংশের মতে, মাটি থেকে উঠে আসা কষ্টিপাথরের মূর্তিতে দেবীর পুজো শুরু হয়েছিল। অন্য একটি জনশ্রুতি অনুযায়ী, স্থানীয় আত্রেয়ী নদীতে ভেসে ওঠা বিগ্রহ বা শিলাখণ্ড উদ্ধার করে এক তান্ত্রিক এই পুজোর প্রচলন করেছিলেন। প্রথম দিকে টিনের চালের ঘরে দেবীর পুজো হতো। পরবর্তীতে এখানে পাকা মন্দির তৈরি হয়েছে।
মন্দিরে অধিষ্ঠিত দেবী এখানে নিত্য পূজিতা। সেই সঙ্গে দীপান্বিতা অমাবস্যায় হয় দেবীর বিশেষ পুজো। এদিন দেবীকে লাল বেনারসি ও সোনার মুখোশ সহ বিভিন্ন স্বর্ণালংকারের সাজানো হয়। পুজো কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজোতে দেবীর মহাপ্রসাদে থাকে বোয়াল মাছ,প্রথম পাঁঠা বলির মাংস, ডাল, আতপ চালের ভাত, বিভিন্ন সবজি, লুচি, পায়েস ও মিষ্টি। প্রতিবছর পুজো কমিটির পক্ষ থেকে দুটি পাঁঠা বলির ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া ভক্তদের মানতের পাঁঠা বলি দেওয়া হলে সেই সংখ্যা বাড়ে।
পুজোর দিন সকাল থেকে মন্দিরে ভক্তদের আনাগোনা শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে শুরু করে। বিকেল থেকে পুজো দিতে মন্দিরের সামনে ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের লম্বা লাইন পড়ে যায়। বালুরঘাটের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু পুণ্যার্থী মাকে পুজো দিতে আসেন। পুজোর পর দিন সকাল থেকে মন্দির প্রাঙ্গণে ভোগ বিতরণ করা হয়।
নতুন পুজো কমিটি গঠিত হয়েছে। পুজো কমিটির সভাপতি তথা বালুরঘাটের বিধায়ক বিদ্যুৎকুমার রায় বলেন, পুজো নিষ্ঠা ও সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করে পুজোর পরদিন মায়ের প্রসাদ বন্টন করতে নতুন কমিটি প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে। সকলের সহযোগিতা কাম্য।
নতুন কমিটির সহ-সভাপতি সমীরপ্রসাদ দত্ত জানান, দেবীকে স্বর্ণালংকারে সাজানো, মন্দিরের সাজসজ্জা ও ধর্মীয় রীতি মেনে পুজো সম্পন্ন করতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



