সুকান্ত বসু, কলকাতা: শাস্ত্রমতে সন্ধিপুজোতে দুর্গাকে ‘চামুণ্ডারূপে’ পুজো করা হয়। দেবীকে দেওয়া হয় ১০৮ পদ্ম। জ্বালানো হয় ১০৮ মঙ্গলপ্রদীপ। শাস্ত্রবিদরা বলেন, অষ্টমী ও মহা সন্ধিক্ষণে এই পুজো হয় বলে একে সন্ধিপুজো বলে।
মহাষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট ও নবমীর প্রথম ২৪ মিনিট পুজোর চূড়ান্ত সময়সীমা। সন্ধিপুজোতেই দেবীর কাছে পশুবলি নিবেদন হয়। এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে পশুবলির পরিবর্তে নিবেদন করা হয় ফল ও চালকুমড়ো। পুজোয় লাগে ১০৮ বেলপাতার মালা, ফল, শাড়ি, দই, মিষ্টি, কাঁসার থালা, লোহা, নথ, চেলির শাড়ি, বাটি, দধি, চিনি, মধু প্রভৃতি। কোথাও প্রথা মেনে এই সময় দেবীকে পরানো হয় অলঙ্কার।
পঞ্জিকাবিদ পণ্ডিত অচিন্ত্য ভট্টাচার্য বলেন, ‘মার্কণ্ডেয় পুরাণে দেবী মাহাত্ম্য বা চণ্ডী অনুযায়ী, দুর্গার সঙ্গে মহিষাসুরের প্রবল যুদ্ধের সময় চণ্ড ও মুণ্ড দুই অসুর দেবীকে আক্রমণ করেন। দেবী ক্ষুব্ধ হয়ে কৃষ্ণবর্ণা চামুণ্ডা বা কালিকারূপ ধারণ করে বধ করেন দুই অসুরকে। এই সন্ধিক্ষণেই দুর্গাকে চামুণ্ডারূপে পুজো করা হয়।’ স্বামী সারদাত্মানন্দ বলেন, ‘অনেকে অষ্টমীর রাতে দুর্গাকে পুজো করার সময় অশোক গাছের ন’টি পাতা, একটি কলসি দুর্গার সামনে রেখে ব্রহ্মী, মাহেশ্বরী, কৌমারী, বৈষ্ণবী, বারাহী, নারসিংহী, ইন্দ্রাণী ও চামুণ্ডার পুজো করেন। এরপর দুর্গামন্ত্র ১০৮ বার জপ করেন।’ সর্বভারতীয় প্রাচ্যবিদ্যা আকাদেমির অধ্যক্ষ ডঃ জয়ন্ত কুশারী বলেন, ‘শাস্ত্রে বলা হয়, নিষ্ঠা এবং ভক্তিভরে সন্ধিপুজো করলে সারাবছর ভালো ফল পাওয়া যায়। সন্ধিপুজোর সময় দেবীর দৃষ্টির সামনে কাউকে যেতে দেওয়া হয় না। সেই সময় মায়ের দৃষ্টিপথ পরিষ্কার রাখা হয়।’ কথিত, ‘সংযমী হয়ে উপবাস করে ভক্তিভরে নিষ্ঠার সঙ্গে সন্ধিপুজো করলে যমের হাত থেকে মুক্তি মেলে।’
পদ্ম নিবেদন প্রসঙ্গে পুজারি শুভেন্দু চক্রবর্তী বলেন, ‘ক্রেতাযুগে রাবণকে বধ করার জন্য সন্ধিপুজোয় রামচন্দ্র দেবীর পায়ে ১০৮ পদ্ম নিবেদন করেন। রামচন্দ্র হনুমানকে পাঠান দেবীদহে ১০৮ পদ্ম আনতে। কিন্তু হনুমান ১০৭টি ফুল নিয়ে ফেরেন। সন্ধিক্ষণ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এই সময় রামচন্দ্র ধনুর্বাণ দিয়ে নিজের একটি চক্ষু দেবীর পায়ে অর্পণ করেন। সেটিই ১০৮তম পদ্ম। এরপরই দুর্গা অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে রাবণকে বধ করেন।’ স্বামী জ্ঞানলোকানন্দের কথায়, ‘সন্ধিপুজো শেষ হওয়ার অর্থই হল মহানবমী তিথি শুরু। আর নবমী মানেই মায়ের কাছে আমাদের সকলের সেই কাতর আহ্বান, ‘যেও না নবমী নিশি...।’ -নিজস্ব চিত্র



