Bartaman Logo
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চার মাসের বকেয়ায় আপাতত ঝাঁপ বন্ধ দুর্গাপুরের মা ক্যান্টিনের

সরকারি বরাদ্দের টাকা নেই চার মাস ধরে। দোকানে বকেয়া জমেছে। সবজি-মুদিখানার দোকানদাররা আর মাল দিতে চাইছেন না।

চার মাসের বকেয়ায় আপাতত ঝাঁপ বন্ধ দুর্গাপুরের মা ক্যান্টিনের
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: সরকারি বরাদ্দের টাকা নেই চার মাস ধরে। দোকানে বকেয়া জমেছে। সবজি-মুদিখানার দোকানদাররা আর মাল দিতে চাইছেন না। গ্যাস নেই, কাঠ নেই। প্রতিদিনের খরচ সামলানোও কার্যত অসম্ভব। শেষ পর্যন্ত অর্থাভাবে আপাতত ঝাঁপ বন্ধ দুর্গাপুরের ‘মা ক্যান্টিনের’। বুধবার থেকে ভিরিঙ্গী মোড় এবং দুর্গাপুর বাসস্ট্যান্ডের মা ক্যান্টিনে ঝুলল তালা। আর তাতেই ফের প্রশ্নের মুখে পড়ল গরিবের জন্য পাঁচ টাকার খাবারের সরকারি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ।

Advertisement

ক্যান্টিন পরিচালকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, মে মাস থেকে আগস্ট পর্যন্ত এক পয়সাও ঢোকেনি সরকারি তহবিল থেকে। দোকানগুলিতে বকেয়া পড়ে থাকায় মুদিখানা কিংবা সবজি বিক্রেতারা আর ধারে জিনিস দিতে রাজি হচ্ছেন না।  প্রতিদিন একেকটি ক্যান্টিন চালাতে যেখানে সাড়ে চার হাজার টাকা খরচ, সেখানে বাজারদরের আগুনে ছ্যাঁকায় হাত তুলে দিতে বাধ্য হয়েছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কর্মীরাও। ভিরিঙ্গি মা ক্যান্টিনের পরিচালিকা মিতালি বাদ্যকরের অভিযোগ , এপ্রিলের পর আর টাকা মেলেনি। চাল বন্ধ হওয়ায় আগেও একবার ক্যান্টিন বন্ধ ছিল। পুরসভায় গিয়েও মেলেনি সদুত্তর। কেবল আশ্বাস দেওয়া হয়েছে ১০ তারিখের মধ্যে বকেয়া ঢুকতে পারে। তাও যদি চালের জোগান না আসে, তবে ১২ সেপ্টেম্বরের পর পাকাপাকি তালা ঝোলানো ছাড়া উপায় থাকবে না।
এই অচলাবস্থার জেরে সরাসরি কোপ পড়ছে সমাজের একেবারে নিচুতলার মানুষের ওপর। পেট চালাতে প্রতিদিন এই ক্যান্টিনেই ভিড় জমাতেন সাফাইকর্মী মহেন্দ্র মল্লিক, প্রবীর বাউরি কিংবা ভ্যানচালক রাকেশ কুমাররা। ক্যান্টিনের ভাত না পেয়ে অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁদের। ক্ষুব্ধ জনার্দন মণ্ডলের প্রশ্ন, ৫ টাকায় মাছ-ভাতের গল্প শোনানো হয়েছিল, এখন কপালে সাদা ভাতটুকুও জুটছে না! কংগ্রেস নেতা দেবেশ চক্রবর্তীর কটাক্ষ , এই সরকার গরিবের নয়, আম্বানি-আদানির সরকার। গরিবের দু’মুঠো খাবারের জন্য টাকা নেই, অথচ বড়োলোকদের জন্য ভর্তুকি আছে। সিপিএম জেলা কমিটির সদস্য সিদ্ধার্থ বসুর অভিযোগ, মুখে মাছ-ভাতের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। আবার ক্যান্টিন চালানো স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারাও বেতন পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, দায় এড়াতে গিয়ে ডিএমসির কমিশনার আবুল কালাম আজাদ ইসলাম জানান, ৩৬ কুইন্টাল চাল এবং ২ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা অ্যালটমেন্ট পাঠানো হয়েছে। ব্যাংক কতদিনে টাকা দেবে, সেটা ব্যাংকের বিষয়।  জেলা বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডলের দাবি, বকেয়া টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাওয়ার কথা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ