সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মন্তব্য ঘিরে সোমবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দুর্গাপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিজেপির অভিযোগ, ২০৩১ সালে ক্ষমতায় ফিরে বিজেপির দলীয় কার্যালয় ভেঙে ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেবলমাত্র রাজনৈতিক বিদ্বেষকেই উসকে দিয়েছেন। সেই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদে দুর্গাপুর গভর্নমেন্ট কলেজ সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভে শামিল হন স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের একাংশ। এদিনের ওই কর্মসূচিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিতে জুতোর মালা পরানো হয়, ডিম নিক্ষেপ করা হয় এবং তাঁর অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, গণতান্ত্রিক পরিসরে বিরোধী রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ভেঙে দেওয়ার হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁদের অভিযোগ, এই ধরনের বক্তব্য সমাজে বিভাজন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই অবিলম্বে বিষয়টির তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। এদিন বিজেপির ওবিসি মোর্চার জেলা সম্পাদক স্বাধীন রায় বলেন, ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কায় তৃণমূল নেতৃত্বের সংযম নষ্ট হয়েছে। বিরোধী দলের কার্যালয় ভাঙার হুমকি দিয়ে তাঁরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকেই অপমান করছেন। বাংলার মানুষ এই ধরনের ঔদ্ধত্যের জবাব যথাসময়ে দিয়ে দেবেন। বিজেপি কর্মী দোলন মাইতির কথায়, তৃণমূল যদি সত্যিই মানুষের উন্নয়নের রাজনীতি করত, তাহলে বিরোধী দলের কার্যালয় ভাঙত না। মানুষের সমর্থন হারিয়েই ওঁরা এখন উসকানিমূলক মন্তব্যের আশ্রয় নিচ্ছে। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষণচন্দ্র ঘোড়ুই বলেন, বাংলার মানুষ ইতিমধ্যেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। দলের অন্দরেই ভাঙনের সুর। তাই এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক হতাশার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছু নয়। একই ইস্যুতে পান্ডবেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি কটাক্ষের সুরে বলেন, পৃথিবীর সর্বত্র বিজেপির দলীয় কার্যালয় থাকবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যদি এতই আপত্তি থাকে, তাহলে তিনি চাঁদে গিয়ে রাজনীতি করুন। সেখানে বিজেপির কোনো কার্যালয় নেই। বিক্ষোভ চলাকালীন এদিন এলাকায় উত্তেজনার আবহ তৈরি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন ছিল।



