Bartaman Logo
২০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ষায় ‘খালি’ মাইথনে বন্ধ গেট জল ছাড়া কমাল দুর্গাপুর ব্যারেজ

অতিবৃষ্টিতে ভাসছে দুই মেদিনীপুরের বেশকিছু এলাকা। জলমগ্ন হয়ে পড়ে আসানসোলেরও বিস্তীর্ণ অংশও

বর্ষায় ‘খালি’ মাইথনে বন্ধ গেট জল ছাড়া কমাল দুর্গাপুর ব্যারেজ
  • ২০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, মাইথন: অতিবৃষ্টিতে ভাসছে দুই মেদিনীপুরের বেশকিছু এলাকা। জলমগ্ন হয়ে পড়ে আসানসোলেরও বিস্তীর্ণ অংশও। অথচ বুধবার মাইথনে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। বর্ষায় টইটম্বুর জলাধারের পরিবর্তে ‘খালি’ মাইথন। জলস্তর বিপদসীমা থেকে বহু নীচে। বাঁধের ১২টি গেটের মধ্যে একটি গেটও খুলতে হয়নি। যতটুকু জল ছাড়া হচ্ছে তা মূলত জলবিদ্যুৎ তৈরির জন্য। মাত্র তিন হাজার কিউসেক হারে। ‘খালি’ মাইথন বর্ষার বিপুল জল ধরে রাখতে প্রস্তুত। এই ছবি স্বস্তি দিচ্ছে দক্ষিণবঙ্গকে। মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে বিপুল জল না ছাড়ায় সোম ও মঙ্গলবার শিল্পাঞ্চলে অতি বর্ষণের পরও বুধবার থেকে দুর্গাপুর ব্যারেজে জল ছাড়ার পরিমাণ কমে গিয়েছে। ভিটে ছাড়ার আশঙ্কা থেকে এযাত্রায় কিছুটা রক্ষা পেয়েছেন আরামবাগ, খানাকুল, আমতার বিস্তীর্ণ এলাকা বাসিন্দারা। 

Advertisement

কেন এই সাফল্য? ডিভিসির মাইথনের প্রজেক্ট হেড সুবীর সাহা বলেন, পরিকল্পনামাফিক জল ছাড়ায় এই সাফল্য এসেছে। প্রবল গ্রীষ্মকালেও মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে অল্প অল্প করে জল ছাড়া হয়েছিল। এতেই জলস্তরে একেবারে নিচে চলে আসে। তাই বর্ষার জল সহজেই ধরে রাখতে পারছে আমাদের বাঁধগুলি।
মাইথন বাঁধের জলস্তর ৪৮০ ফুট উপরে উঠলে তা ফ্লাড স্টোরেজ পর্যায় হিসাবে ধরা হয়। এরপর থেকে যত জলস্তর বাড়ে তত দ্রুত বাঁধ থেকে জল ছাড়তে হয়। কারণ সাধারণত বাঁধে ৪৯৫ফুট পর্যন্ত জল ধরে রাখতে পারে। বিশেষ ক্ষেত্রে তা ৫০০ ফুট পর্যন্ত ধরা হয়। বর্ষায় যেন সেই পরিস্থিতি না আসে তাই ধারাবাহিকভাবে বাঁধ থেকে জল ছাড়া হয়েছে। জলস্তর নামাতে নামাতে ৪৬০ফুট পর্যন্ত নামানো হয়। এর নীচে নামানো হয়নি। কারণ এর নীচে জলস্তর চলে গেলে এখান থেকে সিএলডব্লুতে যে জল সরবরাহ হয় তা পৌঁছাত না। এত নীচে বাঁধের জলস্তর নেমে গিয়েছিল বলেই টানা বৃষ্টিতেও এখনও পর্যন্ত বাঁধের জলস্তর মাত্র ৪৭১ফুট। অর্থাৎ জলস্তর অন্যবারের তুলনায় অনেকটাই নীচে। তাই বাঁধের গেট এখনও খুলতেই হয়নি। 
একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল পাঞ্চেত জলাধারের ক্ষেত্রেও। এখানে বাঁধের ফ্লাড স্টোরেজ ধরা হয় ৪১০-৪২৫ ফুট। সেই জলস্তর নামিয়ে আনা হয়েছিল ৩৯৫ফুটে। তাই বর্ষায় তেনুঘাট থেকে বিপুল জল ছাড়লেও পাঞ্চেত থেকে ছাড়তে হয়নি। যদিও এতে এখন জলস্তর বেড়ে হয়েছে ৪০৭ফুট। তাই জলস্তর কিছুটা কমাতে সেখান থেকে ২৯ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে। 
ড্যামে জলস্তর কম থাকায় সোম ও মঙ্গলবার বাংলাজুড়ে অতি বর্ষণের পরও নিম্ন দামোদর অববাহিকায় ভয়ঙ্কর বন্য পরিস্থিতি হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে। শুধুমাত্র পশ্চিম বর্ধমান ও বাঁকুড়ার অতিবৃষ্টির জেরেই দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে মঙ্গলবার ৮২ হাজার ৪৭৫ কিউসেক হারে জল ছাড়তে হয়েছিল। যদিও নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় ও মাইথন এবং পাঞ্চেত থেকে মোট ৩২হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়ায় দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার হার কমানো সম্ভব হয়েছে। সেখান থেকে ৫৫হাজার ৩০০ কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ