সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: ৫৮ তম বর্ষে গগনচুম্বী মণ্ডপ গড়ে তাক লাগাতে চলেছে দুর্গাপুরের অগ্রণী সাংস্কৃতিক পরিষদ সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। ব্যাঙ্ককের বৃহত্তম বৌদ্ধ মন্দির ‘ওয়াট অরুণ’ এর অনুকরণে এই থিম তৈরি করা হচ্ছে। মণ্ডপের অন্দরমহলে থাকছে লক্ষ লক্ষ শামুক-ঝিনুক দিয়ে তৈরি নানা কারুকার্য। পুজোর বাজেট প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা। শিল্পাঞ্চলের বিগ বাজেটের পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম এই দুর্গাপুজো। এবারের আকর্ষণীয় পুজো মণ্ডপ ও দুর্গা প্রতিমা দেখতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় হবে বলে আশাবাদী পুজো উদ্যোক্তারা।
পুজো উদ্যোক্তারা জানান, শিল্পাঞ্চল সহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলি থেকেও বহু দর্শনার্থী মণ্ডপ দর্শন করতে আসেন। সকাল থেকে সারারাত জমজমাট ভিড় থাকে দর্শনার্থীদের। অগ্রণী সাংস্কৃতিক পরিষদের ক্লাব সংলগ্ন বেনাচিতি হাই স্কুলের ময়দানে গড়ে উঠছে ১৫০ ফুট উচ্চতার মণ্ডপ। তা তৈরি করছেন মেদিনীপুরের শিল্পীরা। বাঁশ, কাঠের বাটাম, কাপড় সহ শামুক, ঝিনুক দিয়ে মণ্ডপ গড়ার কাজ চলছে জোরকদমে। মণ্ডপের সঙ্গে মানানসই প্রায় ১৫ ফুটের দুর্গা প্রতিমা গড়ে তোলা হচ্ছে। দুর্গাপুরের শিল্পী অরুণ পাল ওই প্রতিমা গড়ছেন। অত্যাধুনিক আলোকসজ্জাও নজর কাড়বে দর্শনার্থীদের।
পুজো কমিটির সদস্য কৌশিক সামন্ত বলেন, দুর্গাপুরের মধ্যে এই প্রথমবার এত বিশাল আকারের মণ্ডপ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করবে। থাইল্যান্ডের চাও ফ্রায় নদীর পাশে রয়েছে ওই ওয়াট অরুণ মন্দির। বৌদ্ধ দেবতা অরুণের নামে সেই মন্দির। তারই অনুকরণে আমাদের এই আকর্ষণীয় মণ্ডপ। একটি বিশাল আকারের গম্বুজ থাকছে। পাশে আরও দু’টি গম্বুজ থাকবে। জমজমাট নকশার কাজ থাকছে। এবছর খুঁটিপুজোতে অংশগ্রহণ করেছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার ও পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী সহ বিশিষ্টজনেরা।
গত বছর আমাদের পুজোর থিম ছিল ‘রাজস্থানের’ হাওয়া মহল। যা দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছিল। পুজোর চারদিন মণ্ডপ থেকে ভোগ বিলি করা হয়। সারা বছর নানা সমাজকল্যাণমূলক কাজও করা হয়। প্রায় প্রতিবছরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের পুজোর ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন।-নিজস্ব চিত্র