Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৮০০ বছরের প্রাচীন দুর্গোৎসব, ‘রাজু’র আগমনের পরই জাঙ্গিপাড়ায় ভাঙা দালান বাড়ির দুর্গা আরাধনা শুরু

পরিবারের কুলদেবতা রাজ-রাজেশ্বর থেকে এসেছে ‘রাজু’ নামটি। রাজু হলেন মুখোপাধ্যায় বাড়ির নারায়ণ শিলা। জাঙ্গিপাড়ার চণ্ডীতলা শিয়াখালা ভাঙা দালান বাড়ির পুজো শুরু হয় রাজুর আগমনে।

৮০০ বছরের প্রাচীন দুর্গোৎসব, ‘রাজু’র আগমনের পরই জাঙ্গিপাড়ায় ভাঙা দালান বাড়ির দুর্গা আরাধনা শুরু
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: পরিবারের কুলদেবতা রাজ-রাজেশ্বর থেকে এসেছে ‘রাজু’ নামটি। রাজু হলেন মুখোপাধ্যায় বাড়ির নারায়ণ শিলা। জাঙ্গিপাড়ার চণ্ডীতলা শিয়াখালা ভাঙা দালান বাড়ির পুজো শুরু হয় রাজুর আগমনে। রাম ও শিবের পুজোর পর শুরু হয় দুর্গার আরাধনা। দশমীতে কুমারী পুজো। প্রায় ৮০০ বছর পুরনো এই পুজো বল্লাল সেনের সময়ের।

Advertisement

পরিবার সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রামজয়, রাম নারায়ণ, হরি নারায়ণ ও শিবনারায়ণ মুখোপাধ্যায় পুজোর সূচনা করেছিলেন। পরিবারটি ছিল এই এলাকার জমিদার। ১৮৫৭ সালের পর কলকাতার কালেক্টরের কাছে কর পাঠিয়েছিল। অজ্ঞাত কারণে করবাহক পৌঁছননি। তখন সূর্যাস্ত আইন চালু ছিল। নির্দিষ্ট দিন সূর্য উদয় থেকে সূর্যাস্তের মধ্যে কর জমা দিতে হতো। কর জমা না পড়ায় জমিদারি নিলাম হয়ে যায়। এই এলাকার একজন তখন ইংরেজ জাহাজের ক্যাপ্টেন। তিনি কিনে নেন জমিদারি।
আটচালা নাটমন্দিরের সামনে দ্বিতল দুর্গাদালান। নাটমন্দির ও দুর্গাদালানের ভেঙে যাওয়া অংশ পড়ে রয়েছে এখনও। সে থেকেই পুজোর নাম ভাঙাদালান বাড়ির পুজো। পাশেই রাজরাজেশ্বরের বিশাল মন্দির। প্রায় ৪০০ বছর আগে অষ্টধাতুর বিষ্ণু মূর্তি চুরি গিয়েছিল। এরপর ফাঁকা মন্দিরে দেবীর বোধন হয়। নারায়ণ শিলা আনা হয় পার্শ্ববর্তী বাড়ি থেকে। পরিবারের সদস্যের মতো রাজরাজেশ্বর অর্থাৎ নারায়ণ শিলার নামকরণ হয় রাজু। পুজোর বিশেষত্ব হল, প্রথমে রাম ও শিবের পুজো হয়। দুর্গামূর্তির মধ্যে রয়েছে এই দুই মূর্তি। দশমীতে কুমারী পুজো। বর্তমানে মন্দির সংস্কার করা হলেও পঞ্চমুণ্ডির আসন এখনও মাটির। পরিবারের সদস্য সুদীপ্ত ও অনীশ মুখোপাধ্যায় জানান, প্রায় ৮০০ বছরের পুরনো এই পুজো। 
পারিবারিক সূত্রে পাওয়া তথ্য ও বাড়িতে থাকা বিভিন্ন সামগ্রী দেখে অনুমান বল্লাল সেনের আমলে সূচনা হয়েছিল। মন্দিরের গায়ে পালি ভাষায় লেখা। পুজোতে দুই কাঠির ঢাক নয় এক কাঠির ঢোল ব্যবহার হয়। শাক্ত মতে হয় পুজো। বলি দেওয়া হয় আখ, ছাঁচি কুমড়ো, আদা, বাতাবি লেবু। ছাগ বলি হয় না। তিনদিন প্রসাদ খাওয়ার আয়োজন। দেবীকে দেওয়া হয় খিচুড়ি, সাদা ভোগ, কাঁচকলার বড়া, অম্বল। ২৭টি সরায় দু’বার ভোগ দেওয়ার রীতি। হুগলি জেলার সবথেকে পুরনো পুজো এটি। সবার আগে এই দেবীর বিসর্জন হয়। পঞ্চমুণ্ডি আসনে জাগ্রত দেবীর উপর অগাধ বিশ্বাস সবার। প্রতিবছর বহু মানুষ আসেন দেখতে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ