Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মানিকচকে গঙ্গা ভাঙনে বারবার বদলাতে হয়েছে দুর্গাপুজোর স্থান

মানিকচকে গঙ্গা ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছে সাধারণ মানুষ। প্রতি বছর গঙ্গা ভাঙনে ভিটেমাটি হারাতে হয় বহু পরিবারকে। তাই বলে দেবী দুর্গাকেও ভাঙনে ভিটেমাটি হারাতে হবে!

মানিকচকে গঙ্গা ভাঙনে বারবার বদলাতে হয়েছে দুর্গাপুজোর স্থান
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৮:০৯
Prefer us on Google

সাগর রজক, মানিকচক: মানিকচকে গঙ্গা ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছে সাধারণ মানুষ। প্রতি বছর গঙ্গা ভাঙনে ভিটেমাটি হারাতে হয় বহু পরিবারকে। তাই বলে দেবী দুর্গাকেও ভাঙনে ভিটেমাটি হারাতে হবে! এমনই কাহিনী মালদহের মানিকচক দিয়ারা সর্বজনীন দুর্গাপুজোর। ভাঙনে পাঁচ-ছ’বার ঘরছাড়া হয়ে পুজোর ঠিকানা বদলেছেন মা। তাই ভাঙনের পুজো নামে পরিচিত এই দুর্গাপুজো।

Advertisement

মানিকচক গ্রাম পঞ্চায়েতের ডোমহাট এলাকায় বর্তমানে আয়োজিত হচ্ছে এই পুজো। স্থানীয়রা জানিয়েছেন,১৯০৫ সালে জমিদার ভূপাল চন্দ্র চৌধুরীর পৃষ্ঠপোষকতায় জাঁকজমক পূর্ণভাবে গঙ্গা পাড়ের দরবারীটোলা গ্রামে শুরু হয় পুজো। সেই সময় ১৬টি মৌজা নিয়ে পুজো হওয়ায় ষোল মৌজার পুজো নামে পরিচিতি পেয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গঙ্গা ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় সেই গ্রাম সহ মন্দির। ১৯৯৪-৯৫ সাল থেকে গঙ্গা ভাঙন তীব্র হয় মানিকচকে। পরবর্তন হয় মায়ের পুজোর স্থান। বেচুটোলা, পালপাড়া, হাড্ডাটোলা গ্রামে এক এক বছর পুজোর আয়োজন হয়। বর্তমানে এই সমস্ত জায়গা গঙ্গার গ্রাসে বিলীন। সেই সময় থেকেই এই পুজোর ঠিকানা বারবার বদল হয়েছে। বিগত কয়েক দশকে পাঁচটি স্থান বদলেছে পুজোর। প্রতিক্ষেত্রে কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শুধু গঙ্গা ভাঙন। তবে গত আট বছর ধরে জোতপাট্টা এলাকায় হয়ে আসছে পুজো। যার নাম বর্তমানে মানিকচক দিয়ারা সর্বজনীন দুর্গাপুজো।
স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ মণ্ডলের দান করা জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে স্থায়ী দুর্গামন্দির। তবু দুশ্চিন্তা কমছে না বাসিন্দাদের। কারণ ধীরে হলেও এগিয়ে আসছে গঙ্গা। এই জায়গাতেও কতদিন পুজো করতে পারবেন তা জানেন না তাঁরা। বর্তমানে মন্দির থেকে নদীর দূরত্ব মাত্র ২০০ মিটার। ফের গঙ্গা নিজের ভয়াল রূপ ধারণ করলে ভিটে হারাতে হবে বাসিন্দাদের সঙ্গে মা দুর্গাকেও হারাতে হবে নিজের স্থান। ভাঙন আতঙ্কের মধ্যেই গ্রামবাসীরা মিলেই জোরকদমে শুরু করেছেন পুজোর প্রস্তুতি। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে এবং রাজ্য সরকারের দেওয়া সহায়তায় চলছে পুজোর প্রস্তুতি। ঐতিহ্য মেনেই মন্দিরে গড়ে তোলা হচ্ছে প্রতিমা। 
দুর্গাপুজাকে কেন্দ্র করে একটি মেলারও আয়োজন করা হয়। পুজোর কটা দিন ভাঙন আতঙ্ক ভুলে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন জোতপাট্টার বাসিন্দারা। পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ উত্তম কর্মকার বলেন, ১৯০৫ সাল থেকে গঙ্গার ভাঙনে যেভাবে স্থানীয় বাসিন্দারা স্থান পরিবর্তন করতেন, একইভাবে মা দুর্গার স্থান পরিবর্তন হতো। 
এবছরও গঙ্গার জল মন্দিরের চারপাশে রয়েছে। তার মধ্যে আমরা পুজো প্রস্তুতি শুরু করেছি। রাজ্য সরকারের দেওয়া অনুদান এবং গ্রামের বাসিন্দাদের চাঁদায় পুজো হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ