বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: রাজস্থানের চোখ ধাঁধানো প্যালেস। তার ভিতর বিশাল ঝাড়বাতি। নীচে পদ্মফুল। নজর ফেরানো যাবে না এমন কারুকাজ। নানা ধরণের ফুল, মডেল। অভ্যর্থনার জন্য প্যালেসের বাইরে দু’টি বড় হাতি দাঁড়িয়ে। তার পাশ কাটিয়ে উঠতে হবে বেতের তৈরি পালকিতে। চারজন বাহকের কাঁধে রয়েছে পালকি। তাতে ঢুকলেই পৌঁছে যাওয়া যাবে রাজস্থানের প্যালেসের অন্দরে। এখানেই বাস করেন রাজরানি দেবী দুর্গা।
প্যালেসের বাইরে নজরে পড়বে আরও কিছু। দেখা যাবে, রাজস্থানের লোকনৃত্য। শোনা যাবে, সে অঞ্চলের গান। দেখা যাবে, উটের পাল। এ জন্য রাজস্থানে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। খুব কম খরচে শিয়ালদহ থেকে বজবজ শাখার ট্রেনে উঠলেই হবে। বজবজ স্টেশন থেকে দু’স্টপেজ পরে কুইন সিনেমা। সেখানে বিশাল জায়গা নিয়ে তৈরি হয়েছে রাজস্থানের প্যালেস। বজবজ ডি এন ঘোষ রোড সর্বজনীন দুর্গোৎসব শহরের অন্যতম বিগ বাজেটের পুজো বলে পরিচিত। এ পুজো এবার ৫২ বছরে পা দিল। প্রতিবছরের মতো এবারও চমক। কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাপস মাইতি বলেন, বাহান্ন বছর বলে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাজেটও বেশি, প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা। নদীয়ার বিখ্যাত ডেকরেটর জিৎ মজুমদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। থিম, রাজমহলের রাজরানি। এখানে রাজমহলের রাজরানি দেবী দুর্গা। প্রতিমার সৌন্দর্য প্যালেসের সঙ্গে যাতে মিলে যায় তার জন্য পদ্মশ্রী শিল্পী সনাতন রুদ্র পালকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আলোর কারুকাজের জন্য চন্দননগরের পিন্টু ইলেকট্রিক কাজ করছে। প্যালেস রাজস্থানের হলেও ভিতরের কারুকাজ সব বাংলার। মণ্ডপের বাইরে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ১০০ ফুট চওড়া এবং লম্বায় ২৮ ফুট ইলেকট্রিকের বোর্ড করা হয়েছে। আলোর মাধ্যমে ওই বোর্ডে ফুটে উঠবে রাজস্থানের লোকনৃত্য থেকে লোকগান এবং জীবনযাত্রা। এছাড়াও ফোম, বেত, বাঁশ, মাদুর দিয়ে নকশা তৈরি করা হবে মণ্ডপ ও চারপাশে।