নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: রবিবার রাধাষ্টমীর পুণ্যতিথিতে শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের ডিমারি স্কুলমাঠে মহিলা পরিচালিত দুর্গাপুজোর খুঁটিপুজো হয়ে গেল। নারীশক্তি এই পুজোর আয়োজক। তাই রাধাষ্টমী তিথিকেই খুঁটিপুজোর জন্য বেছে নিয়েছিলেন উদ্যোক্তারা। এবার পুজো পাঁচ বছরে পড়ল। সম্প্রতি বাংলাদেশে নানা হিংসাত্মক ঘটনায় এদেশেও তার পরোক্ষ প্রভাব পড়ছে। দুই দেশের শান্তির লক্ষ্যে পুজো কমিটির থিম ভাবনাও অভিনব। ঢাকার বৌদ্ধ মন্দিরের আদলে এবার থিম করছে অপরাজিতা পুজো কমিটি। দুই দেশে শান্তির বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই ভাবনা বলে পুজো কমিটির সম্পাদিকা মমতা গুড়িয়া সাহুর দাবি।
রবিবার মাঙ্গলিক আচার মেনে খুঁটিপুজো সম্পন্ন হয়। এখানকার প্রতিমা গড়ছেন শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের আস্তাড়ার বিশিষ্ট মৃৎশিল্পী অনুপ ঘোড়াই। পরপর দু’বছর এখানকার প্রতিমা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কার্নিভালে অংশ নিয়েছে। মহিষদা, খোসখানা, রঘুনাথপুর, পাকুড়িয়া সহ আশপাশের গ্রামের একশোর বেশি মহিলা সম্মিলিত হয়ে অপরাজিতা কমিটি গঠন করে পুজো করছেন। পুজো উপলক্ষ্যে ডিমারি হাইস্কুল মাঠে মেলা বসে। কমিটির পক্ষ থেকে এই মেলার নামকরণ করা হয়েছে, ‘আনন্দ মেলা।’ সাতদিন ব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান হবে।
পুজো কমিটির সভানেত্রী বন্দনা মণ্ডল ও কোষাধ্যক্ষ শোভনা দলপতি বলেন, আমরা মেয়েরা একত্রিত হয়ে পুজোর কয়েকটা দিন নিজেদের মতো কাটানোর সিদ্ধান্ত নিই। নিজেরা পুজো করার সিদ্ধান্ত নিই। বাড়ির পুরুষরাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এভাবেই পাঁচ বছর ধরে আমরা পুজো করে আসছি। এই পুজো ঘিরে ডিমারি স্কুলমাঠ মিলন মেলায় পরিণত হয়। প্রতিটি বাড়িতেই আত্মীয়স্বজন আসে। বাড়ির ছোট-বড় প্রত্যেকে পুজোর আনন্দে শামিল হন। আমরা সারা বছর এজন্য অপেক্ষা করি। রবিবার খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে কাউন্ট ডাউন শুরু হয়ে গেল। প্রশাসন সবরকমভাবে আমাদের পাশে থাকে। স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং এলাকাবাসীর কাছেও আমরা সবধরনের সহযোগিতা পাই।-নিজস্ব চিত্র