দুর্গাপুজো পাস দুর্নীতি: ইন্দ্রনীলের মেয়েকে তলব
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুর্গাপুজোর পাস দুর্নীতির টাকা সহ টেন্ডারের কাটমানি নিতেই মেয়ের নামে কোম্পানি খুলেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। ওই কোম্পানির অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল বিপুল পরিমাণ টাকা। যা আবার  চলে গিয়েছে মমতা ঘনিষ্ঠ এই প্রাক্তন বিধায়কের অ্যাকাউন্টে। পুজোর পাস দুর্নীতি কাণ্ডের তদন্তে নেমে এই তথ্য উঠে এসেছে লালবাজারের সিটের হাতে। এই কোম্পানির বিষয়ে তথ্য জানতেই ইন্দ্রনীলবাবুর মেয়েকে আজ, মঙ্গলবার লালবাজারে ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। অ্যাকাউন্টে জমা পড়া টাকার বিষয়ে তিনি কী জানতেন, সেই প্রসঙ্গে তাঁর কাছে প্রশ্ন করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

পুজোর পাস দুর্নীতিকাণ্ডে লালবাজারের হাতে ধৃত  ইন্দ্রনীল সেন জেরায় তদন্তকারীদের কাছে বারবার দাবি করছেন, বিভিন্ন সময়ে তিনি একাধিক গান গেয়েছেন। এর বিনিময়ে যে টাকা পেয়েছেন সেটিই তাঁর অ্যাকাউন্টে এসেছে। অতিরিক্ত টাকা কোথা থেকে এল, তা তাঁর জানা নেই। প্রাক্তন মন্ত্রীর দাবি, তাঁর অ্যাকাউন্টটি নিয়ন্ত্রণ করতেন ধ্রুবজ্যোতি (শুভ) বসু। ধ্রুবজ্যোতি বসু গ্রেপ্তার হলে, এই বিষয়টি যাচাই করা হবে বলে তদন্তকারীরা বলছেন। এই ভাবে দায় এড়িয়ে ইন্দ্রনীল টাকার প্রসঙ্গ এড়ানোর চেষ্টা করলেও, যদিও তদন্তকারীদের দাবি, বিপুল পরিমাণ টাকা গান গেয়ে অর্জিত নয়। অন্য সূত্র থেকে এগুলি এসেছিল। কিন্তু প্রাক্তন মন্ত্রী গোটা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। মেয়ের অ্যাকাউন্ট  থেকে কেন  টাকা এল তাঁর অ্যাকাউন্টে, এই প্রশ্নে ইন্দ্রনীলবাবু দাবি করেন, গান গাওয়ার পেমেন্ট অনেক সময় মেয়ের কোম্পানির অ্যাকাউন্টে এসেছে। পরে তা স্থানান্তর হয়েছে তাঁর অ্যাকাউন্টে। তদন্তকারীরা জানতে চান, এই সংক্রান্ত নথি কোথায়? এরপরই চুপ করে যান তিনি। সিটের অফিসাররা প্রাথমিকভাবে জেনেছেন, প্রাক্তন মন্ত্রী এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্টট্যান্টের পরমার্শমতো এই কোম্পানি খোলেন।  ঘটনাচক্রে ওই সিএ অনেক তৃণমূল নেতাকে কোম্পানি খুলতে সাহায্য করেছেন। টাকা ঘোরানোর জন্যই যে এই কোম্পানি খোলা হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত অফিসাররা। এখানে বিভিন্ন সময়ে নগদে টাকা জমা পড়েছে। এমনকি অন্য অ্যাকাউন্ট থেকে ইন্দ্রনীলবাবুর অ্যাকাউন্টে টাকা এসেছে। এই টাকা টেন্ডারের কাটমানি বাবদ প্রাক্তন মন্ত্রীর কাছে এসেছিল, এমন তথ্যপ্রমাণ পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তিকে জেরা করা হয়েছে। তবে কোম্পানির বিষয়ে প্রাক্তন বিধায়কের মেয়ে কী জানতেন এবং টাকা ট্রান্সফার তাঁর অনুমতি নিয়ে করা হত কি না, সেটা তাঁকে জেরা করে জানতে চাইছেন অফিসাররা। এমনকি কোম্পানির অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রক কে, সেটাও তাঁর কাছ থেকে জানতে চাওয়া হবে বলে খবর।।